রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক মাদক কারবারিদের সঙ্গে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) কিছু সদস্যের সখ্যতা গড়ে উঠেছে—এমন অভিযোগ ঘিরে কক্সবাজারে তোলপাড় চলছে। ২০২৩ সাল থেকে গত শুক্রবার পর্যন্ত ইয়াবাসহ তিন এপিবিএন সদস্য আটকের ঘটনাও বিষয়টি আরও আলোচনায় এনেছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা ঢলের পর কক্সবাজারের ৩৩টি ক্যাম্পে অপরাধ দমনে এপিবিএনের তিনটি পৃথক ইউনিট দায়িত্ব পালন শুরু করে। দীর্ঘদিন একই এলাকায় দায়িত্ব পালনের কারণে কিছু সদস্যের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সুযোগে ইয়াবা ও অস্ত্র পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে এপিবিএনের কিছু সদস্য জড়িয়ে পড়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
একাধিক সূত্র দাবি করছে, এপিবিএনের কিছু সদস্য টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্যে সুবিধা দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেট ও পরিবহন থেকে মাসোহারা আদায় এবং চেকপোস্টে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এরই মধ্যে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের মরিচ্যা যৌথ চেকপোস্টে অটোরিকশার যাত্রীবেশে ইয়াবা পাচারের সময় এপিবিএনের এক সদস্যকে আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় তার কাছ থেকে ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
বিজিবির রামু ৩০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটক সজীব বেপারী (২৩) ঢাকার ধামরাই উপজেলার নান্নার এলাকার বাসিন্দা। তিনি উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্বে থাকা ৮ এপিবিএনের কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তিনি আরও জানান, চেকপোস্টে একটি অটোরিকশা থামিয়ে তল্লাশির সময় এপিবিএনের লোগোযুক্ত টি-শার্ট পরা এক যাত্রীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তার ব্যাগ থেকে ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। আটককালে তার পরিচয়পত্রও জব্দ করা হয়।
এ বিষয়ে ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, কনস্টেবল সজীব বেপারী বৃহস্পতিবার ছুটি নিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেন। তিনি কীভাবে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত হয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ফরিদ জানান, মরিচ্যা যৌথ চেকপোস্টে দায়িত্বরত নায়েব সুবেদার মো. আব্দুল আওয়াল বাদী হয়ে মাদক আইনে মামলা করেছেন। আটক আসামিকে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
অভিবাসন ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক আসিফ মুনীর বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য আটক হলে দায় রোহিঙ্গাদের ওপর চাপানো হলেও বাস্তবে ক্যাম্পের ভেতর ও বাইরে প্রভাবশালী চক্র মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, ক্যাম্পে পোস্টিংয়ের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে, যা দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করছে। দৃশ্যমান বিচার না হলে এ ধরনের ঘটনা বন্ধ হবে না।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২০ মে এসআই রেজাউল করিমকে ২০ হাজার ইয়াবাসহ সস্ত্রীক আটক করা হয় কক্সবাজারে। এছাড়া ২০২৪ সালের জুনে ঈদগাঁও উপজেলায় ২০ হাজার ইয়াবাসহ এপিবিএনের সদস্য তৈয়বুল ইসলামকে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
এসআর