মৌসুমি ঝড়ের আগমনী বার্তা ঘিরে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার উপকূলীয় চরাঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টারের অভাব এবং বিদ্যমান অনেক আশ্রয়কেন্দ্রের জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে দুর্যোগ ঝুঁকিতে রয়েছেন এসব এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর মধ্যবর্তী অর্ধশতাধিক চরে প্রায় ২ লাখ মানুষের বসবাস। এর মধ্যে জনবসতিপূর্ণ অন্তত ২০টি চরে পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র বা মাটির কিল্লা নেই। ফলে ঝড়-বাদলের সময় এসব এলাকার প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ অরক্ষিত অবস্থায় থাকেন।
চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর ইউনিয়নের বাসিন্দা আজাহার মাস্টার বলেন, জনসংখ্যার তুলনায় সাইক্লোন শেল্টার খুবই কম। অনেক কেন্দ্রের স্যানিটেশন ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে এগুলোর সংস্কার প্রয়োজন।
চরকুকরি এলাকার গ্রাম চিকিৎসক ইব্রাহিম জানান, একটি সাইক্লোন শেল্টারের ধারণক্ষমতা সাধারণত ৬০০-৭০০ জন হলেও ঘূর্ণিঝড়ের সময় সেখানে আড়াই থেকে তিন হাজার মানুষ আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। অনেক এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার রাস্তাও বেহাল।
চরফ্যাশন উপজেলা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি)-এর সহকারী পরিচালক কেএম মাহতাবুল বারী সিপু জানান, উপকূলের এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন-পুরাতন মিলিয়ে মাত্র ১৬৫টি স্কুল-কাম সাইক্লোন শেল্টার রয়েছে। এছাড়া ২৩টি মাটির কিল্লার মধ্যে মাত্র তিনটি ব্যবহারযোগ্য। বেশ কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র ইতোমধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। উদ্ধারকর্মী রয়েছেন ৪৯৬ জন।
তিনি আরও বলেন, নিয়মিত দুর্যোগ মহড়ার মাধ্যমে উপকূলবাসীর মধ্যে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা চলছে।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ জানান, উপকূলীয় চরাঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কেন্দ্রে নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ সুবিধা এবং গৃহপালিত পশু রাখার ব্যবস্থাও রাখা হবে।
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে চরের সাইক্লোন শেল্টার ও ঘূনিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র মধ্যে বেশ কয়কটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। গত কয়েক বছরের সিডর, আইলা ও মহাসেন, রোয়ানু , ইয়াস,ফণি, মিখিলা, হামুন, রেমাল, হুদহুদ, আমফান, মোখা, অশনি, ঘুর্ণিঝড় সিত্রাংনের শক্তিসহ ছোট-বড় অন্তত ২০টি ঝড়ে শতাধিক মানুষরে প্রাণহানি ঘটেছে। ঝড়ে উপকূল লন্ড-ভন্ড হয়ে ধ্বংসলীলায় পরিণত হলেও আজো উপকূলের মানুষ অনিরাপদ। তাই পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার তৈরি করার দাবি উপকূল বাসীর।
এসএফ/এসআর