Monday | 1 June 2026 | Reg No- 06
Epaper | English
   
English | Monday | 1 June 2026 | Epaper
BREAKING: সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে মার্কেট-শপিংমল বন্ধের নির্দেশ      প্রবীণ আ.লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন      পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ      ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে গ্রাহক-পুলিশ সংঘর্ষ      ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের      মরণোত্তর জাতিসংঘ পদক পাচ্ছেন ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী      বাজেটের আগে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এক ধরনের ধোঁকাবাজি: জামায়াত আমির      

ঘুষ না দেওয়ায় জেলের সরকারি প্রকল্পের গরু ‘গায়েব’, মিলল অন্যের গোয়ালে

প্রকাশ: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ২:২২ পিএম   (ভিজিট : ১২১)

বাগেরহাটের ফকিরহাটে সরকারি প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দকৃত একটি গরু ঘুষ না দেওয়ায় একজন দরিদ্র জেলে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তার নামে বরাদ্দকৃত গরুটি অন্য ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করে পরে বিক্রি করা হয়েছে। পরবর্তীতে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ওই গরুটি একই ইউনিয়নের অন্য এক ব্যক্তির গোয়ালে পাওয়া গেছে, যা প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগকে সামনে এনেছে।

উপজেলার নলধা-মৌভোগ ইউনিয়নের ডহর মৌভোগ গ্রামের বাসিন্দা তারাপদ বিশ্বাস পেশায় একজন দরিদ্র জেলে এবং উপজেলা মৎস্য অফিসের তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগী। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ‘দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে তাকে একটি গরু বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে প্রকল্পের বিতরণ তালিকায় নাম থাকলেও তিনি বাস্তবে কোনো গরু পাননি বলে অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, স্থানীয় ডহর মৌভোগ গ্রামের ১নং ওয়ার্ডের এক রাজনৈতিক দলের নেতা মোহিত বালা গরু বিতরণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও জেলে কার্ড সংগ্রহ করেন। পরে ‘অফিস খরচ’ বাবদ ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। দরিদ্র ওই জেলে টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তার নামে বরাদ্দকৃত গরুটি তাকে না জানিয়ে অন্য একজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

শুক্রবার (১ মে) তারাপদ বিশ্বাস জানান, পরে তিনি জানতে পারেন তালিকার ৩৯ নম্বরে তার নামে বরাদ্দ প্রায় ৬০ কেজি ওজনের বকনা বাছুরটি অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছে। বহুবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও তিনি কোনো প্রতিকার পাননি। তার দাবি, শুধু তিনি নন, একই দিনে বিতরণ করা ৬০টি গরুর মধ্যে একাধিক তালিকাভুক্ত জেলে গরু পাননি, যা বৃহত্তর অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই গরুটি একই ইউনিয়নের শ্রীনাথ বৈরাগীর পরিবারের কাছে রয়েছে। তার ছেলে শ্রীবাস বৈরাগী ও বোন জানান, “গরু দেওয়ার জন্য আমাদের কাছ থেকেও টাকা চাওয়া হয়েছিল। পরে দরকষাকষির পর ৪ হাজার টাকা দিই। এরপর উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে গরুটি নিয়ে আসি। পরে জানতে পারি, এটি অন্য একজনের নামে বরাদ্দ ছিল।”

শ্রীবাস বৈরাগী আরও বলেন, “গরু গ্রহণের সময় মাস্টার রোলে তারাপদ বিশ্বাসের নামে যে স্বাক্ষর রয়েছে, তা তিনি দেননি। গরু নেওয়ার সময় তারাপদ বিশ্বাসের কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র বা জেলে কার্ডও দেখানো হয়নি। আমরা ভেবেছিলাম টাকার বিনিময়ে এটি আমাদের নামে বরাদ্দ হয়েছে।” এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ভুক্তভোগীর ছেলে প্রহলদ বিশ্বাস অভিযোগ করেন, বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হলেও উল্টো তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তার ভাষ্য, একইভাবে আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও গরু দেওয়ার নামে টাকা নেওয়া হয়েছে, যা তালিকা ধরে তদন্ত করলে বের হয়ে আসতে পারে।

এ ঘটনায় প্রকল্পের ভুক্তভোগীরা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত মোহিত বালা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কাউকে সরকারি গরু পাইয়ে দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। মৎস্য অফিস কাকে গরু দিয়েছে বা দেয়নি, সে বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।”

এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ আসাদুল্লাহ জানান, তারাপদ বিশ্বাস প্রকৃত তালিকাভুক্ত জেলে। তিনি উপস্থিত না থাকায় কার্ড দেখে তার ছেলে পরিচয়দানকারী একজনের কাছে গরুটি দেওয়া হয়েছে। তবে যাচাই-বাছাই ছাড়া অন্য ব্যক্তির কাছে গরু হস্তান্তরের বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেননি। এ ঘটনায় মাঠ সহায়ক কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এএ/আরএন




LATEST NEWS
MOST READ
আরও পড়ুন
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000.
Phone: PABX- 41053001-06; Online: 41053014; Advertisement: 41053012.
E-mail: district@dailyobserverbd.com, news©dailyobserverbd.com, advertisement©dailyobserverbd.com, For Online Edition: mailobserverbd©gmail.com
🔝
close