ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
বর্ষায় কাদা, শুকনায় ধুলা: ৫ কিলোমিটার সড়কে ২৫ গ্রামের মানুষের চরম ভোগান্তি
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম আপডেট: ০২.০৫.২০২৬ ১২:৪০ পিএম
X

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ও সুরমা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী প্রায় ৫ কিলোমিটার কাঁচা সড়কটি এখন দুই ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের জন্য চরম যন্ত্রণার নাম। বর্ষা মৌসুমে হাঁটুসমান কাদা এবং শুষ্ক মৌসুমে অসহনীয় ধুলাবালির কারণে দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন প্রায় ২৫টি গ্রামের বাসিন্দা। স্বাধীনতার এত বছর পরও গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি পাকাকরণের কোনো স্থায়ী উদ্যোগ না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের রসরাই মাদ্রাসা থেকে সুরমা ইউনিয়নের নূরপুর বাজার পর্যন্ত সড়কটির এক ইঞ্চি জায়গাও পাকা নয়। বৃষ্টির পানি জমে সড়কটি বর্তমানে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যাতায়াত ব্যবস্থা এতটাই ভেঙে পড়েছে যে স্থানীয় অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চালকদের নিজ উদ্যোগে কোদাল দিয়ে সড়কের কাদা সরাতে দেখা গেছে। যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাও এখন বড় দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সড়কের এই বেহাল অবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থায়। আলীপুর সোনালীনুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, প্রায় ২০-২৫টি গ্রামের শিক্ষার্থী এই পথ দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। কর্দমাক্ত সড়কের কারণে শিক্ষার্থীরা সময়মতো ক্লাসে আসতে পারে না; অনেক সময় কাদার ভয়ে অভিভাবকেরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতেও চান না। দ্রুত সড়কটি সংস্কার না হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ক্ষতি হবে।

একই সমস্যার কথা জানিয়ে রসরাই হযরত শাহজালাল দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষিকা তাহুরা আক্তার বলেন, বর্ষায় এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা নারীদের জন্য চরম ভোগান্তির বিষয়। দ্রুত সংস্কার করা হলে হাজার হাজার মানুষের দৈনন্দিন জীবনে স্বস্তি ফিরবে।

এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে সমন্বয়হীনতার চিত্র উঠে এসেছে। লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক জহিরুল ইসলাম জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি পিচ্ছিল হয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। তিনি বর্তমানে তাঁর ইউনিয়ন অংশের ভাঙা স্থানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু কাজ করাচ্ছেন। তবে সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, সড়কের মালিকানা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। দোয়ারাবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন জানান, সড়কটি পানি উন্নয়ন বোর্ড নাকি এলজিইডির অধীনে—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে বর্তমান মৌসুমে তাদের করার মতো তেমন কিছু নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরুপ রতন সিংহ জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সম্পর্কে তিনি প্রথম অবগত হয়েছেন। এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অবহেলিত এই জনপদের বাসিন্দাদের দাবি—আশ্বাস নয়, বরং দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপের মাধ্যমে নূরপুর বাজার থেকে রসরাই মাদ্রাসা পর্যন্ত সড়কটি পাকাকরণ করে তাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটানো হোক।

এমবি/আরএন


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝