ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১১ বছর বয়সী এক শিশু গৃহপরিচারিকাকে নির্যাতনের অভিযোগে এক চিকিৎসক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে শহরের উত্তর মৌড়াইল এলাকার নিজ বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে হাজির করা হলে জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন চিকিৎসক কে এম আব্দুল্লাহ আল নোমান ও তাঁর স্ত্রী কিমিয়া সাদাত তোফা। তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের উত্তর মৌড়াইল এলাকার বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী শিশু আয়েশা আক্তার জেলার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল গ্রামের রাকিব মিয়ার মেয়ে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় নয় মাস আগে আয়েশাকে ওই চিকিৎসক দম্পতির বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজে দেওয়া হয়।
শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে আয়েশার সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। কয়েকদিন আগে অভিযুক্তরা পরিবারকে জানায়, আয়েশা চুরি করে বাসা থেকে পালিয়ে গেছে। পরে তাকে খুঁজে না পেয়ে গত ২৬ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন পরিবারের সদস্যরা।
জিডির সূত্র ধরে পুলিশ বুধবার সকালে অভিযুক্তদের বাসার পাশের একটি বাড়ি থেকে আয়েশাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরিবারের দাবি, শিশুটির শরীরজুড়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সে নিয়মিত মারধর ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
এ ঘটনায় আয়েশার বাবা রাকিব মিয়া বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে চিকিৎসক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত চিকিৎসক দম্পতি নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, শিশুটি বাসা থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। তবে পুলিশ জানিয়েছে, শিশুর বিরুদ্ধে থানায় কোনো লিখিত চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
এসআর/আরএন