কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১১)। রবিবার কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) র্যাব-১১-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধ একটি ছিনতাইকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা চালক ও যাত্রীর ছদ্মবেশে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াত এবং দূরদূরান্ত থেকে আসা যাত্রীদের টার্গেট করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে সর্বস্ব লুট করত।
র্যাব জানায়, গত শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে বুলেট বৈরাগী কুমিল্লার জাগুরঝুলি বিশ্বরোড এলাকায় পৌঁছান। সেখানে আগে থেকেই অটোরিকশা নিয়ে ওঁত পেতে ছিল চক্রের সদস্যরা। আসামি জুয়েল তার গন্তব্য জানতে চাইলে বুলেট বৈরাগী জাঙ্গালিয়া যাওয়ার কথা জানান। এরপর সোহাগ ও হৃদয় তাকে অটোরিকশায় তোলেন।
পথে সোহাগ, জনি ও হৃদয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুলেট বৈরাগীকে আঘাত করে তার মোবাইল ফোন, টাকা ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেন। বুলেট বৈরাগী বাধা দিলে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে চলন্ত অটোরিকশা থেকে তাকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। পরদিন শনিবার সকালে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ী এলাকার একটি হোটেলের পাশে তার মরদেহ পাওয়া যায়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ইমরান হোসেন হৃদয় (৩৭), মোহাম্মদ সোহাগ (৩০), ইসমাইল হোসেন জনি (২৫), মোহাম্মদ সুজন (৩২) ও রাহাতুল রহমান জুয়েল (২৭)। তাদের কাছ থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, চাপাতি এবং সুইচ গিয়ার (এক ধরনের ছুরি) উদ্ধার করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুশীল বৈরাগীর একমাত্র সন্তান বুলেট বৈরাগীর বয়স হয়েছিল মাত্র ৩৫ বছর। তিনি সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে কর্মরত ছিলেন। গত ১১ এপ্রিল ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে যোগ দিতে তিনি চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন। কুমিল্লা নগরের রাজগঞ্জ পানপট্টি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। তিনি স্ত্রী ও এক সন্তান রেখে গেছেন।
এ ঘটনায় গতকাল রবিবার রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেছেন নিহতের মা নীলিমা বৈরাগী। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, পাওয়ার ব্যাংক, ব্যাগ ও পোশাক উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সিএনজি, চাপাতি, সুইচ গিয়ার, স্ক্রু ড্রাইভার, ফোরজিং হ্যামার, প্লায়ার্স, মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র্যাব জানতে পারে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। তারা গভীর রাতে যাত্রী সেজে সিএনজিতে উঠে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছিনতাই করত।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন রাতে জাগুরঝুলি বিশ্বরোড এলাকায় ওঁত পেতে থাকা চক্রের সদস্যরা বুলেট বৈরাগীকে সিএনজিতে তোলে। পরে চলন্ত গাড়ির ভেতরে তাকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা ও মালামাল ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে কোটবাড়ি এলাকায় পৌঁছে তাকে চলন্ত সিএনজি থেকে ফেলে দিলে গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে গেলেও র্যাব অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবহৃত অস্ত্র ও যানবাহন উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব-১১ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
কুমিল্লাস্থ র্যাব-১১ সিপিসি-২-এর অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পেশাদার ছিনতাইকারী এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।
আরএন