নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ছোট যমুনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে উপজেলার নালুকাবাড়ী ও মানপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ আশপাশের ফসলি জমি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।
রোববার (২৭ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, আশ্রয়ণ প্রকল্পসংলগ্ন নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে দিন-রাত চলছে বালু উত্তোলন। ট্রাক্টরের অবিরাম যাতায়াত এবং নদীর পাড়জুড়ে বালুর স্তূপে এলাকা কার্যত অবৈধ বাণিজ্যের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। কোনো ধরনের ইজারা বা অনুমতি ছাড়াই প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘ দেড় বছর ধরে প্রশাসনের চোখের সামনেই এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই অবৈধ এই কার্যক্রম বন্ধ করা যাচ্ছে না।
অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে ইতোমধ্যে নালুকাবাড়ী ও মানপুর আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে প্রকল্পের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।
নালুকাবাড়ী আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা মুকুল বলেন, “সরকার আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই দিয়েছে। কিন্তু বালু উত্তোলনের কারণে সেই ঘরটুকুও হারানোর ভয় তৈরি হয়েছে।”
নদীতীরবর্তী কৃষিজমিও ভাঙনের মুখে পড়েছে। প্রতিদিনই ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। এক কৃষক হানিফ অভিযোগ করেন, কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন। এতে বাধা দিলে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাস্থলে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে শ্রমিকরা ট্রাক্টর ফেলে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে এক শ্রমিক জানান, কোনো ইজারা ছাড়াই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে এবং প্রতি ট্রাক্টর বালু ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। তবে অভিযানের আগাম খবর পেয়ে সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ইতোমধ্যে নদীর পাড়ে মজুদ বালু জব্দের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জান্নাত আরা তিথি বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ছোট যমুনার নালুকাবাড়ী ও মানপুর এলাকায় গড়ে ওঠা আশ্রয়ণ প্রকল্প দুটি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ও সাধারণ মানুষের জীবিকা।
কেকেএইচ/এসআর