আধুনিক স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত এক দৃষ্টিনন্দিত মসজিদ আমান মসজিদ। মসজিদটি ইতোমধ্যে নজর কেড়েছে নারায়ণগঞ্জসহ আশেপাশের জেলার মানুষদের। এলাকার সকল চিত্রও পাল্টে দিয়েছে। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার মেঘনা নদীর পাশে বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সোনামহি এলাকায় আমান ইকোনমিক জোনের অভ্যন্তরে নির্মিত এ মসজিদ। শুভ্রতা ও শুদ্ধতার প্রতীক এ মসজিদের নাম দেওয়া হয়েছে আমান ইকোনমিক জোন মসজিদ। তবে এক নামে চিনে আমান মসজিদ হিসেবে।
আমান ইকোনমিক জোনে কর্মরত লোকদের প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের জন্যে মসজিদটি নির্মাণ করা হলেও দৃষ্টিনন্দিত এই মসজিদটি বাড়িয়ে দিয়েছে পুরো এলাকার সৌন্দর্য্য। চারদিকে খোলা পরিবেশ। ভিন্ন ধরনের ডিজাইন ও নিরিবিলি পরিবেশে বিশাল জায়গাজুড়ে এ মসজিদ নির্মিত। তার চারপাশে আবারও ছাদ দেওয়া। একতলা এই মসজিদের ভেতরে কোনো পিলার নেই। পাশেই রয়েছে মিনার। মিনারটিও একেবারে মসজিদ-লাগোয়া নয়, ভিন্ন ধাঁচের সুউচ্চ মিনারটি একটু দূরে। সন্ধ্যায় যখন বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালানো হয়, তখনই ভেসে উঠে এর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। তবে দিনের আলোতেও দেখতে কম সুন্দর না। চারপাশ খোলা হওয়ায় পর্যাপ্ত বাতাস প্রবেশ করতে পারে। ফলে তপ্ত রোদেও মসজিদের ভেতরে পরিবেশ ঠান্ডা থাকে।
জানা গেছে, সোনারগাঁওয়ে বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সোনামহি এলাকায় আমান ইকোনমিক জোন কর্তৃপক্ষ তাদের কোম্পানীর অভ্যন্তরে মেঘনা নদীর তীরে ২০১৬ সালে মসজিদটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ৩ বছর শেষে ২০১৯ সালে মসজিদটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ২ একর জায়গার মধ্যে নির্মিত মসজিদের সৌন্দর্যবর্ধনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে সম্পূর্ণ আধুনিক জিনিসপত্র।
মসজিদের প্রধান স্থপতি বায়েজিদ মাহবুব খন্দকার জানান, মসজিদটির ভেতরে একটি শান্ত এবং নির্মল পরিবেশ সৃষ্ট করা হয়েছে, যাতে মসজিদটির ভেতরে আধ্যাত্মিকতার ছাপ পাওয়া যায়। সে আঙ্গিকে মসজিদটির নকশা করা হয়। ভেতরের পথটি বৃত্তাকার হলেও চারটি কোণে মসজিদটি বিভক্ত। মসজিদটির পিলারগুলো ১২ ফিট উঁচু। বাইরের অযাচিত কোনো শব্দ যেন মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে ইবাদত-বন্দেগির মনোযোগে কোনো ধরনের ব্যাঘাত না ঘটায়, এজন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। মসজিদের খিলানগুলি দিনে ভিতরের আলোর উৎস এবং এর প্যাটার্নযুক্ত নকশাগুলি তীব্র সূর্যের রশ্মিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্যে ব্যবহার করা হয়েছে। প্রাকৃতিক আলো বিভিন্ন প্যাটার্নের মধ্য দিয়ে মসজিদের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। সম্মুখভাগে ত্রিভুজাকার প্যাটার্নযুক্ত ওপেনিংগুলোর মাধ্যমে সূর্যের আলো প্রার্থনার জায়গাটিতে প্রবেশ করে পুরো পরিবেশকে আরও রহস্যময় করে তোলে। এই ত্রিভুজাকার প্যাটার্ন হল চিরাচরিত ফ্যাসাদ ডিটেইলিং যা খুব সহজে মসজিদটিকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। মসজিদটির বাইরেই রয়েছে সুউচ্চ মিনার। দূর থেকে এর আধুনিক স্থাপত্য শৈলী যে কাউকে মুগ্ধ করে।
তিনি আরো জানান, বিদেশী দেশগুলির প্রশংসা পেয়েছে এবং এ মসজিদ পুরস্কৃতও হয়েছে। মসজিদটি ৩১তম জে. কে সিমেন্ট আর্কিটেক্ট অফ দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ডস ও আব্দুল্লাতিফ আল ফোজান পুরস্কারে ভুষিত হয়।
আমান ইকোনমিক জোনের ডিজিএম মো. নাদিরুজ্জামান জানান, দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদটি বাড়িয়ে দিয়েছে পুরো এলাকার সৌন্দর্য। মসজিদের ভবনটির চারপাশে অর্ধ-উন্মুক্ত স্পেস রয়েছে। এ অর্ধ-উন্মুক্ত জায়গাটি বৃত্তাকার যা নির্দিষ্ট কোন দিকনির্দেশনা দেয় না। এ জায়গাটি মূল হলের অভ্যন্তরে আলো-বাতাসের প্রধান উৎস। স্পেসটির চারপাশের ল্যান্ডস্কেপ ধীরে ধীরে ঢালু হয়ে ভবনটিকে এর চারপাশের সাথে একত্রিত করে। এই উত্তলিত ল্যান্ডস্কেপটি একটি অবতল প্রাঙ্গণ তৈরি করে যার ওপর মূল ভবনটি রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিদিন এ এলাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোকজন এ মসজিদটি দেখতে আসে। তারা মসজিদে নামাজও আদায় করে।
নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের সাজু আলম, রাব্বী হোসেন, তনয় ও মোক্তার। তারা চার বন্ধু সোনারগাঁওয়ে বেড়াতে আসে। তারা বলেন, এ দৃষ্টিনন্দন আমান মসজিদের কথা অনেক শুনেছি। তাদের খুবই ইচ্ছা করছে মসজিদটি রাতে নিজ চোখে দেখা। যেই কথা সেই কাজ আমরা তিন বন্ধুরা বাইক নিয়ে চলে আসি এ মসজিদটি দেখার জন্য।
তারা বলেন, মসজিদটায় গিয়েই মনটা এতো ফ্রেশ হয়ে গেল বুঝাতে পারবো না। কি সুন্দর মিষ্টি বাতাস ছিলো। খোলা জায়গাটাও অনেক বড়। তখন আধো মেঘলা আকাশ মাশাল্লাহ। মসজিদের ভেতরে নামাজ আদায় করলাম।
এইচএমআর/এসআর