লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুইজন চিকিৎসক এক দিনের ছুটি নিয়ে প্রায় ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা হলেন আবুল কাশেম মহিউদ্দিন ও কাজী সামসুদ্দোহা।
কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার জন্য একাধিকবার চিঠি পাঠানো হলেও তারা যোগ দেননি। এদিকে পদ দুটি দীর্ঘ ৬ বছরেও শূন্য ঘোষণা করা হয়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মাসের ৫-৬ তারিখে জনবল পরিস্থিতির তালিকা করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়। ওই প্রতিবেদনে প্রতিমাসেই দুই চিকিৎসকের অনুপস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। কিন্তু নিয়মিত প্রতিবেদন পাঠানো হলেও দীর্ঘ ৬ বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই পদ দুটিতে নতুন করে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
সূত্র আরও জানায়, ২০১৫ সালের ১৩ জুলাই থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক) আবুল কাশেম মহিউদ্দিন এবং একই বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে সাইচা উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার কাজী সামসুদ্দোহা অনুপস্থিত রয়েছেন। তবে তারা ওই সময় থেকে কোনো বেতন-ভাতাও গ্রহণ করেননি। কর্তৃপক্ষের ধারণা, তারা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।
সূত্র জানায়, আবুল কাশেম মহিউদ্দিন ২০১৫ সালের ৬ এপ্রিল অর্থোপেডিক চিকিৎসক হিসেবে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দেন। আর কাজী সামসুদ্দোহা ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর সাইচা উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। পরে পারিবারিক কারণ দেখিয়ে এক দিনের ছুটি নিয়ে তারা আর কর্মস্থলে ফেরেননি। কর্তৃপক্ষ তাদের স্থায়ী ঠিকানায় একাধিকবার চিঠি পাঠালেও সবগুলোই প্রাপককে না পেয়ে ফেরত এসেছে।
দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি রায়পুর উপজেলা শাখার সভাপতি সাব্বির আলম মিয়াজী বলেন, “যেসব চিকিৎসক বছরের পর বছর আইন ভঙ্গ করে অনুপস্থিত থাকছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এই ১০ বছরে অনেক চিকিৎসক এখানে পদায়ন হতে পারতেন। বিষয়টি দুঃখজনক।”
হায়দরগঞ্জ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার মানস দে জানান, “আমি এ কেন্দ্রে এক বছর আগে যোগদান করেছি। এমবিবিএস চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্ট না থাকায় তাদের দায়িত্ব আমাকে একাই পালন করতে হচ্ছে। এখানে প্রতিদিন গড়ে ৫০-৬০ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। মেডিক্যাল অফিসার না থাকায় অতিরিক্ত চাপ নিতে হচ্ছে।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. বাহারুল আলম বলেন, “কাজী সামসুদ্দোহা ও আবুল কাশেম মহিউদ্দিনের অনুপস্থিতির বিষয়টি প্রতিমাসে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পদ দুটি শূন্য ঘোষণা না হওয়ায় নতুন কাউকে পদায়ন করা সম্ভব হয়নি। অনুপস্থিত চিকিৎসকদের কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার জন্য একাধিকবার নোটিশ পাঠানো হয়েছে, কিন্তু তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ২১ জন চিকিৎসক দিয়ে দিন-রাত হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এখনো গাইনি, চক্ষু, অর্থোপেডিক ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পদ শূন্য রয়েছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় এবং পদগুলো শূন্য ঘোষণা না করায় গ্রামীণ রোগীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।”
ওআর/আরএন