প্রথম দেখায় তাকে দেখে যে কেউ ভাবতে পারেন ধর্মপ্রাণ, নিরীহ একজন মানুষ। মুখ ভর্তি লম্বা দাঁড়ি, কপালে ইবাদতের ছাপ- সব মিলিয়ে একেবারে আল্লাহ ভীরু মানুষের প্রতিচ্ছবি। কিন্তু এই বাহ্যিক চেহারার আড়ালে লুকিয়ে ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাস্তবতা, যা জানলে বিস্মিত হবেন যে কেউ।
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের দিঘুয়া গ্রামে বসবাসকারী আল-আমিনকে ঘিরেই এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। বাইরে থেকে তার বসতঘরটি একটি বড় গোয়াল ঘর হিসেবেই পরিচিত ছিল। সেই গোয়াল ঘরের এক কোণে পার্টিশন দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল ছোট একটি কক্ষ, যেখানে একটি খাট পেতে রাতযাপন করতেন তিনি।
স্থানীয়দের ধারণা ছিল- গবাদিপশু পাহাড়ার জন্যই তার এমন ব্যবস্থা।
তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত পুলিশের একটি মাদকবিরোধী অভিযানে বেরিয়ে আসে ভিন্ন চিত্র। শনিবার বিকেল থেকে শুরু হয়ে টানা প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অভিযান চালায় কালীগঞ্জ থানা পুলিশ।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন। তার সঙ্গে ছিলেন ইন্সপেক্টর মো. আশরাফুল ইসলাম, মো. ইকবালসহ থানার অন্যান্য এসআই ও পুলিশ সদস্যরা।
অভিযানের একপর্যায়ে আল-আমিনের ব্যবহৃত খাটের পাশে নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় সাড়ে ৫ কেজি গাঁজা। এছাড়া, তার পরনে থাকা লুঙ্গির কোমরে লুকানো অবস্থায় পাওয়া যায় ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। উদ্ধারকৃত এসব মাদকদ্রব্য জব্দ করে তাকে আটক করা হয়।
এ ঘটনায় রোববার সকালে আল-আমিনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয় এবং তাকে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, 'গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা অভিযান পরিচালনা করি। দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। মাদক নির্মূলে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।'
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, বাহ্যিক চেহারা দেখে কাউকে বিচার করা যে কতটা বিভ্রান্তিকর হতে পারে- এই ঘটনাই তার বড় প্রমাণ।
এলাকাবাসীর ভাষ্য মতে, আল-আমিনের বাবা কফিল উদ্দিনও ছিলেন পেশাদার মাদক কারবারি। মূলত বংশ পরম্পরায় আল-আমিন মাদক ব্যবসা করে আসছিল।
আরএস/এমএ