রাজশাহীর বাঘায় প্রতিদিন ঘন ঘন লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজের কারণে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। লোডশেডিংয়ের ফলে টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটারসহ মূল্যবান ইলেকট্রনিক সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধানের চেষ্টা দেখা যাচ্ছে না।
নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর বাঘা জোনাল অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় তিনটি বিদ্যুৎ গ্রাহক পরিচালনা অফিস রয়েছে। বাঘা জোনাল অফিসের অধীনে আড়ানী, জোতরাঘব এবং চকরাজাপুর উপকেন্দ্র রয়েছে। এ অফিসের অধীনে মোট ৭০ হাজার ১৫৭ জন গ্রাহক রয়েছে।
প্রতিদিন রাতের সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা থাকে ১৮ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যায় ১১ মেগাওয়াট। ফলে দৈনিক ঘাটতি থাকে ৭ মেগাওয়াট। দিনের বেলায় চাহিদা থাকে ১০ মেগাওয়াট, সরবরাহ পাওয়া যায় ৭ মেগাওয়াট, ঘাটতি থাকে ৩ মেগাওয়াট। এই ঘাটতি পূরণের জন্য নিয়মিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে—দিন-রাত, সময়ে-অসময়ে।
উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভায় সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় দুই শতাধিক অফিস রয়েছে। এছাড়া ব্যবসায়ীদেরও বিদ্যুৎ সংকট ও লো-ভোল্টেজের কারণে প্রতিদিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটছে এবং হাজার হাজার টাকার ক্ষতি হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে, তবুও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
আড়ানী বাজারের স্বর্ণা কালার ডিজিটাল স্টুডিওর মালিক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসায় বড় ক্ষতির মুখে পড়ছি। প্রতি সপ্তাহে কম্পিউটার এক-দুইবার নষ্ট হচ্ছে। এতে ব্যবসায় ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।”
আড়ানীর ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ী সুদর্শন কুমার জানান, বিদ্যুতের এই অবস্থার কারণে ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে হাজার হাজার টাকার ক্ষতি হচ্ছে।
এ বিষয়ে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর বাঘা জোনাল অফিসের ডিজিএম মনিরুল ইসলাম জানান, বাঘা জোনাল অফিসের অধীনে আড়ানী, জোতরাঘব ও চকরাজাপুর উপকেন্দ্র রয়েছে। তিনটি অফিসের আওতায় ১৫টি ফিডার লাইন রয়েছে। যতটুকু বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়া যায়, তা এই ১৫টি ফিডার লাইনে পর্যায়ক্রমে ভাগ করে সরবরাহ করা হয়।
এএইচ/আরএন