ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা সদরের ভূমি অফিসে আজ তিন সাংবাদিককে অফিসের ভেতরে 'তালাবদ্ধ' করে আটক রাখার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভূমি অফিসে খারিজ করতে 'কেন ঘুষ নেওয়া হয়'?—এ বিষয়ে তথ্য জানতে গেলে ওই তিন সাংবাদিককে অফিসের ভেতর 'তালাবদ্ধ' করে রাখেন ভূমি অফিসের সহকারী নায়েব সামসুদ্দোহা।
তবে ঘটনা জানার ঘণ্টাখানেক পরই ইউএনওর হস্তক্ষেপে ওই সাংবাদিকেরা 'তালাবদ্ধ' অবস্থা থেকে মুক্তিলাভ করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদর ভূমি অফিসে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বাংলা টিভির প্রতিনিধি পিয়াল হাসান রিয়াজ, গ্রীন টিভির প্রতিনিধি মমিনুল হক রুবেল এবং বাংলাদেশের আলো পত্রিকার প্রতিনিধি মো. অলিউল্লাহ—এই তিন সাংবাদিক খারিজ-সংক্রান্ত তথ্য জানতে সেখানে যান।
এ সময় কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) মো. সামসুদ্দোহা ও অফিস সহায়ক হাবিবুর রহমান ওই তিন সাংবাদিককে অফিসের ভেতর 'তালাবদ্ধ' রেখে বেরিয়ে যান। এ সময় ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা অন্যান্য সেবাগ্রহীতারাও ভেতরে আটকা পড়েন।
এ বিষয়ে সাংবাদিক পিয়াল হাসান রিয়াজ বলেন, 'নবীনগর বাজারের আলমাস মিয়া নামের একজন ব্যবসায়ী সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সামসুদ্দোহার কাছে একটি জমির খারিজ করতে এলে তিনি (সামসুদ্দোহা) নাকি ৪০ হাজার টাকা ঘুষ চান। এ খবর শুনে আমরা তিন সাংবাদিক বিষয়টি জানতে এলে ওই কর্মকর্তা ও তাঁর লোকজন প্রথমে আমাদের একজনের মোবাইল কেড়ে নেন। পরে অফিসের ভেতর আমাদেরকে 'তালাবদ্ধ' রেখে তারা চলে যান। ফলে আমরা ভেতরে এক ঘণ্টা আটক থাকি।'
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভূমি কর্মকর্তা সামসুদ্দোহার সঙ্গে মুঠোফোনে এ প্রতিনিধির পরিচয় দিয়ে কথা বললে তিনি বলেন, 'আমি কোনো সাংবাদিক-টাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলি না'—বলে ফোনটি রেখে দেন।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, 'এটি নিছক ভুলবুঝাবুঝির একটি ঘটনা। নায়েব তিন সাংবাদিকের উপস্থিতিতে অনেকটা ভয়ে তাঁর অফিসে তালা মেরে চলে আসেন। তবে ঘটনাটি শোনার পরপরই আমি প্রেসক্লাবের সভাপতি ও একজন সরকারি দলের নেতাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তালা খোলার ব্যবস্থা করি।'
পরে খোঁজ নিয়ে ওই সরকারি দলের নেতা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ফারুক আহমেদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বললে তিনি জানান, 'তখন আমি ইউএনওর কক্ষে ছিলাম। ওই ভূমি কর্মকর্তা হন্তদন্ত হয়ে এসে ইউএনওকে ঘটনাটি জানাচ্ছিলেন। পরে ইউএনও মহোদয় তাঁর পক্ষে আমাকে গিয়ে তালাটি খুলে দেওয়ার অনুরোধ করলে আমি গিয়ে তালা খুলে সাংবাদিকদের মুক্ত করি।'
সরকারি দলের এই নেতা অবশ্য এ ঘটনাটিকে 'দুঃখজনক' উল্লেখ করে ভূমি কর্মকর্তার শাস্তি দাবি করেন।
এদিকে নবীনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. হোসেন শান্তি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ওই ভূমি কর্মকর্তার শাস্তি দাবি করেন।
এমএস/আরএন