সাতক্ষীরা জেলার সাতটি উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল থেকে বাংলা বিষয়ের এই পরীক্ষায় জেলার ১৭টি কেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। তবে মোট পরীক্ষার্থীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল বলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানায়।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৮,৫০২ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ৫ হাজার ১৯৮ জন এবং অনুপস্থিত ছিল ৩ হাজার ৩০৪ জন। জেলায় গড় উপস্থিতির হার ৬১.১৪ শতাংশ।
উপজেলাওয়ারী তথ্যে দেখা যায়, তালা উপজেলায় উপস্থিতির হার সবচেয়ে বেশি (প্রায় ৭২.৩৭%)। অন্যদিকে কলারোয়া উপজেলায় উপস্থিতির হার সবচেয়ে কম ছিল। কলারোয়ার দুটি কেন্দ্রে গড় উপস্থিতি ছিল মাত্র ৪০ শতাংশের কাছাকাছি।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ৩টি কেন্দ্রে ১ হাজার ৮৫১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিল ১ হাজার ২৫৩ জন। অনুপস্থিত রয়েছে ৫৯৮জন।
তালা উপজেলায় ৪টি কেন্দ্রে ১ হাজার ৩০৮জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯৯৬ জন অংশ নিয়েছে। অনুপস্থিত রয়েছে ৩১২জন।
কলারোয়া উপজেলার ২টি কেন্দ্রে ১ হাজার ২৭২ জনের মধ্যে উপস্থিত ৪২৫জন। এ উপজেলায় অনুপস্থিত ৮৪৭জন।
দেবহাটা উপজেলায় ৬০০ জনের মধ্যে উপস্থিত ছিল ৩৯৪ জন। এখানে অনুপস্থিত আছে ২০৬জন।
আশাশুনি উপজেলায় ৩টি কেন্দ্রে ১ হাজার ১৪০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিল ৬৮২জন। অনুপস্থিত ৪৫৮জন।
কালিগঞ্জ উপজেলায় ২টি কেন্দ্রে ১ হাজার ১৭০ জনের মধ্যে উপস্থিত ৭৬৬ জন। অনুপস্থিত আছে ৪০৪জন।
শ্যামনগর উপজেলায় ২টি কেন্দ্রে ১ হাজার ১৬১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৮২জন পরীক্ষায় বসেছে। অনুপস্থিত ৩৭৯জন।
প্রতিটি কেন্দ্রে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট সঠিকভাবে পাওয়া গেছে এবং পরীক্ষা চলাকালীন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা।
সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমীন জানান, "জেলায় সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা চলমান রয়েছে। প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে কেন্দ্রের শৃঙ্খলা সবই সন্তোষজনক।
তবে অনুপস্থিতির পরিমাণ এত বেশি কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন যারা প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা দিচ্ছে তারা সবাই ক্লাস সিক্স এর ছাত্র। উল্টো এসে ক্লাস ফাইভ এর বৃত্তি পরীক্ষা দেওয়াটা হয়তো অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা গুরুত্ব দেয়নি।
তিনি বলেন, কিন্ডার গার্ডেন শিক্ষার্থী ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একই সঙ্গে বৃত্তি পরীক্ষা নিয়ে মামলার সৃষ্টি হয়। সেই মামলা শেষ হওয়ার পর এই বৃত্তি পরীক্ষা দেরি হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ রুহুল আমীন বলেন, বর্তমান সরকার বৃত্তির সংখ্যা ও বৃত্তির অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে, যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহ জোগাবে। এবারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এমজেডআর/এসআর