নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে প্রবাসী মাসুম মিয়াকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত অন্যতম আসামি শাকিল মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। বুধবার সকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত র্যাব-১১ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের র্যাব-১১ ও উত্তরার র্যাব-১ যৌথ অভিযানে তুরাগ থানাধীন দিয়াবাড়ী মেট্রোরেল স্টেশনের মেট্রো ফুড কোর্টের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত শাকিল মিয়া রূপগঞ্জের ভোলাব এলাকার বাসিন্দা।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ৩০ মার্চ সন্ধ্যায় রূপগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনায় প্রতিপক্ষের হামলায় মাসুম মিয়া (২৫) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যায়। নিহত মাসুম মিয়া উপজেলার টাওরা পশ্চিমপাড়া এলাকার নুর মোহাম্মদের ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, মাসুম মিয়া ও পার্শ্ববর্তী ভোলাবো এলাকার রাজু একসাথে সৌদি আরবে ছিলেন। সেখানে মাসুম মিয়ার সাথে রাজুর টাকা-পয়সার লেনদেন ছিল। কিছু দিন আগে প্রথমে রাজু ও পরে মাসুম মিয়া দেশে চলে আসেন। দেশে আসার পর পাওনা টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। ঘটনার দিন মাসুম মিয়া মোটরসাইকেলযোগে পাঁচদোনা থেকে নিজ বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় টাওরা মধ্যে পাড়া সড়কে রাজুসহ গ্রেপ্তারকৃত শাকিল ও অন্য আসামিরা মিলে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
পরে স্থানীয়রা তাকে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেন। সেখান থেকে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়া তাকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ৭টার দিকে তিনি মারা যান। এরই প্রেক্ষিতে রূপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয়। পরবর্তীতে ঘটনাটি বিভিন্ন টিভি এবং প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচার হলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্যে নারায়ণগঞ্জ র্যাব-১১ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। পরবর্তীতে নিজস্ব গোয়েন্দা নজরদারি ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তুরাগ থানাধীন দিয়াবাড়ী এলাকা থেকে শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য রূপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এসএস/এমএ