চলতি বছরের এপ্রিল মাসের প্রথম ১২ দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১৪৩ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে) প্রায় ১৭ হাজার ৫৩১ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
গত বছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ১০৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। সে হিসেবে চলতি বছরের এপ্রিলের প্রথম ১২ দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা টাকার অঙ্কে প্রায় ৪ হাজার ৬৯৭ কোটি বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে আরও জানা যায়, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছিল গত বছরের মার্চ মাসে, যখন প্রবাসীরা ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার পাঠান। সে তুলনায় চলতি বছরের মার্চে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রায় ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
এছাড়া, তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে, যখন দেশে আসে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। চতুর্থ সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে চলতি বছরের জানুয়ারিতে, ওই মাসে প্রবাসী আয় ছিল ৩১৭ কোটি মার্কিন ডলার।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও অস্থিরতার প্রভাব বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও পড়তে শুরু করেছে। সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের চাহিদা বেড়েছে এবং স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হারও বেড়েছে। ফলে প্রবাসীরা দেশে পাঠানো ডলারের বিপরীতে তুলনামূলক বেশি টাকা পাচ্ছেন।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত অবস্থানে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
এসআর