পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান সামাজিক উৎসব—বিঝু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু, সাংক্রাই, সাংলান, চাংক্রান ও পাতা-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে রাঙামাটিতে ঐতিহ্যবাহী বলি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বিকেলে রাঙামাটির চিং হ্লা মং চৌধুরী মারী স্টেডিয়ামে এই বলি খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে ছোট, মাঝারি ও বড়—তিনটি বিভাগে মোট ৮ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। বড়দের বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন রাঙামাটি চম্পকনগর এলাকার দিপু তালুকদার (বলি) এবং রানার্সআপ হন খাগড়াছড়ির খবংপুড়িয়া এলাকার সৃজন চাকমা।
বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া বলি খেলা দেখতে ৩টার আগেই বিভিন্ন এলাকা থেকে পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোররা মারী স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে উপস্থিত হয়ে ভিড় জমাতে থাকেন। বলি খেলা দেখতে স্থানীয় বাঙালিরাও উপস্থিত ছিলেন। খেলার সময় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়।
বিঝু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু, চাংক্রান ও পাতা-২০২৬ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রকৃতি রঞ্জন চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদার, উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ইন্টু মনি তালুকদারসহ পাহাড়ি সমাজের বিশিষ্টজনরা।
গত ৯ এপ্রিল "জুম্ম জাতীয় সংরক্ষণ এবং অপ-সংস্কৃতির প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসুন" স্লোগানে অনুষ্ঠানমালার ঘোষণা করে উদযাপন কমিটি। প্রথম দিন বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, দ্বিতীয় দিন বিভিন্ন পাহাড়ি (জুম্ম) খেলা, তৃতীয় দিন বলি খেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শেষ দিন রবিবার ভোরে পানিতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে শেষ হবে চার দিনের এই আয়োজন।
এছাড়া আগামী ১৭ এপ্রিল রাঙামাটির মারী স্টেডিয়ামে মারমা জাতিগোষ্ঠীর সাংগ্রাই জলোৎসব (জলকেলি) অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়েই সাঙ্গ হবে পাহাড়ের বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণের বর্ণাঢ্য আয়োজন।
এসকে/আরএন