নাসরিন খাতুন (৩৫) পেশায় একজন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি)। সমাজের অসহায় ও দুস্থ মানুষদের অসুস্থতায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। কিন্তু জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে তিনি নিজেই যেন মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। অর্থাভাবে তার যথাযথ চিকিৎসাও করাতে পারছেন না তার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী স্বামী।
নাসরিন নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আওতাধীন নগর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি কৃষ্ণপুর গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলামের স্ত্রী।
জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুস, কিডনি ও লিভারের বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থতায় ভুগছেন। ইতিপূর্বে বিভিন্ন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেও গত প্রায় এক মাস ধরে তিনি সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে খাজা ইউনুস আলী মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কিন্তু দিন দিন তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য বর্তমানে তাকে ঢাকার মহাখালী জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা তাকে বিদেশে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এতে কমপক্ষে সাত লাখ টাকা খরচ হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু তার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী স্বামীর পক্ষে এতো টাকার জোগান দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দিন দিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে।
তার স্বামী সাইদুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে তার চিকিৎসার জন্য ব্যবসার পুঁজি ও সামান্য জমি বিক্রি করে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এখন আর তার পক্ষে চিকিৎসার খরচ বহন করা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, “আমার স্ত্রীকে বাঁচাতে না পারলে দুটি ছোট সন্তানকে নিয়ে আমি কীভাবে বাঁচব? সমাজের দানশীল ব্যক্তিরা যদি এগিয়ে আসেন, তাহলে হয়তো আমার স্ত্রী বেঁচে যাবে এবং আমার শিশু সন্তান দুটি এতিম হওয়া থেকে রক্ষা পাবে।”
যদি কেউ তার চিকিৎসার জন্য সাহায্য করতে আগ্রহী হন, তাহলে সোনালী ব্যাংক, বড়াইগ্রাম শাখার ৪৯০৩০০২১৪৮২৩১ নম্বর অ্যাকাউন্টে অথবা তার স্বামীর বিকাশ নম্বর ০১৭৪১-৭৩৯৭১১, ০১৭১৯-৫৩১০৯৭-এ সাহায্য পাঠাতে পারেন।
এএইচ/আরএন