ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা সদরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক শালিসের মাধ্যমে ১১ লাখ টাকায় মীমাংসা হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে উপজেলা সদরের একটি হোটেলে উভয় পক্ষ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শালিসে সভাপতিত্ব করেন আলীয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দা ও শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. খবির উদ্দিন। তিনি বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে জানান, সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জরিমানার ৮ লাখ টাকা মৃত প্রসূতির নবজাতক পুত্র সন্তানের নামে স্থায়ী আমানত (এফডিআর) হিসেবে জমা রাখা হবে। বাকি ৩ লাখ টাকা প্রসূতির স্বামী ও তার বাবার বাড়ির লোকজনকে সমানভাবে (প্রতি পক্ষ দেড় লাখ টাকা) দেওয়ার কথা থাকলেও স্বামীর পরিবার তা গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেছে।
তিনি আরও জানান, শালিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে ২ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে এবং অবশিষ্ট ৯ লাখ টাকা এক মাসের মধ্যে পরিশোধ করা হবে। ক্ষতিপূরণের অর্থ যথাসময়ে ভুক্তভোগীদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতালটির মেরামত ও সংস্কারের দায়িত্ব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে বলে শালিসে সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ মামলা-মোকদ্দমা করতে পারবে না বলেও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এদিকে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, শালিসের বিষয়ে তার জানা নেই। তিনি বলেন, “ঘটনার পাঁচ দিন পার হলেও এখনো কোনো মামলা হয়নি, বিষয়টি বিস্ময়কর।” তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে কোনো অসঙ্গতি পাওয়া গেলে পুলিশ নিজ উদ্যোগে মামলা করবে বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে, প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় জেলা সিভিল সার্জনের নির্দেশে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার দিনভর হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছে। জেলা সিভিল সার্জন মো. নোমান মিয়া বলেন, “শালিসের বিষয়টি আমাদের আওতার মধ্যে নয়। তদন্তে চিকিৎসক বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
হাসপাতালের মালিক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (৫ এপ্রিল) গভীর রাতে উপজেলার লাউর ফতেপুর গ্রামের সফিকুল ইসলামের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রাকিবা আক্তার (২০) প্রসবব্যথা নিয়ে নবীনগর সদরের আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সৈয়দ কামরুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে তার সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। পরে অভিযোগ ওঠে, অপারেশনের কিছু সময় পর ভুল চিকিৎসার কারণে নবজাতক পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়ে তিনি মারা যান। ঘটনার পরদিন বিক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
এমএসপি/ এসআর