দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে পুকুর খননের কারণে চলাচলের রাস্তায় মাটি স্তুপ করে রাখায় অন্তত ৫০টি পরিবারের যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কয়েকটি পাড়ার সাধারণ মানুষের চলাচলও বন্ধ হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী।
ঘটনাটি উপজেলার আব্দুলপুর ইউনিয়নের আন্ধারমুহা পণ্ডিতপাড়ায় ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেহা তুজ জোহরা, থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুন নবী এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ ময়েন উদ্দিন শাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা ৭ দিনের মধ্যে রাস্তার ওপর স্তুপ করে রাখা প্রায় ৫ ফুট পরিমাণ মাটি অপসারণ করে জনগণের চলাচলের পথ উন্মুক্ত করার নির্দেশ দেন।
সরেজমিনে জানা গেছে, আব্দুলপুর ইউনিয়নের আন্ধারমুহা পণ্ডিতপাড়ার হবিবর রহমান, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোলেমান আলীর যোগসাজশে তার বাড়ির পাশে জমিতে পুকুর খনন করেন। খননকৃত মাটি পুকুরের পাড়ে উঁচু করে স্তুপ করে রাখায় গত ৩০ বছর ধরে ওই পথ দিয়ে চলাচলকারী অন্তত ৫০টি পরিবারের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। এতে কয়েকটি পাড়ার মানুষের চলাচলেও মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে মৌখিকভাবে জানালে তিনি পুকুর খননকারী হবিবর রহমানকে রাস্তা বন্ধ না করার নির্দেশ দেন। কিন্তু তিনি তা না মানায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংঘর্ষের আশঙ্কায় উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
স্থানীয় ভুক্তভোগী জমশেদ আলী বলেন, গত ১৫-১৬ দিন ধরে রাস্তা বন্ধ থাকায় পাড়ার অটোরিকশা চালক ও ভ্যানচালকরা তাদের যানবাহন বের করতে পারছেন না। কেউ মোটরসাইকেল বা সাইকেলও বের করতে পারছেন না। বিকল্প হিসেবে ঘুরপথে সরু রাস্তা ব্যবহার করে কষ্ট করে মানুষ চলাচল করছেন।
পুকুর খননকারী হবিবর রহমান প্রশাসন ও সাংবাদিকদের জানান, আগে তার বাড়ির পাশ দিয়ে জনগণ চলাচল করত। পরে সেটি বন্ধ করে প্রায় ২৫-৩০ বছর আগে পুকুরপাড় দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বর্তমানে পুকুর খননের ফলে মাটি রাখার জায়গা না থাকায় পাড়েই স্তুপ করে রাখা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেহা তুজ জোহরা, থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুন নবী এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ ময়েন উদ্দিন শাহ জানান, পুকুর খননকারীকে ৭ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মাটি অপসারণ না করলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমআই/আরএন