জলাতঙ্ক নাম শুনলেই মানুষ আতঙ্কিত হয়। কুকুর, বিড়াল বা অন্য অনেক প্রাণীর কামড়ের শিকার হলে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য একমাত্র নিরাপদ উপায় হলো ভ্যাকসিন গ্রহণ। অথচ সেই জীবনরক্ষাকারী ভ্যাকসিনই এখন মিলছে না লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে। একই চিত্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও। এতে জেলার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বাধ্য হয়ে অনেককে বেশি দামে ফার্মেসি থেকে ভ্যাকসিন কিনতে হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা সদর হাসপাতালে প্রতিদিন ভ্যাকসিন নিতে আসেন শতাধিক রোগী। জেলা সদর হাসপাতাল ছাড়াও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও ভ্যাকসিনের চাহিদা বেড়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কুকুর-বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত রোগীরা এসে শুনছেন—ভ্যাকসিন নেই। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা বাইরে থেকে তা কিনে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। এতে রোগীদের অধিক দামে ভ্যাকসিন কিনতে হচ্ছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরে কুকুর ও বিড়ালের আক্রমণের শিকার রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এ কারণে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের চাহিদাও অনেক বেড়েছে। এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় গত তিন মাস ধরে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের মজুদ শূন্য। ফলে অধিকাংশ রোগীকেই বেশি দামে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ী মো. কবির হোসেন বলেন, “বিড়ালের আঁচড়ের পর দ্রুত হাসপাতালে ছুটে আসি। কিন্তু এখানে এসে জানতে পারি, হাসপাতালে কোনো ভ্যাকসিন নেই। বাইরের ফার্মেসিতে পাওয়া যাচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে সেখান থেকে ৪৮০ টাকা দিয়ে একটি ভ্যাকসিন কিনে নিই।”
তিনি আরও বলেন, “ফার্মেসিতে ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু সরকারের সরবরাহ নেই কেন? আমার টাকা থাকায় আমি ভ্যাকসিন কিনতে পেরেছি, কিন্তু অনেক মানুষ আছে—তারা ভ্যাকসিন না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে। সরকারকে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।”
ইনসেফটা ফার্মাসিউটিক্যালসের বিপণন কর্মকর্তা আবদুল মালেক বলেন, “ফার্মেসিগুলো থেকে ভ্যাকসিনের ব্যাপক অর্ডার পাওয়া যাচ্ছে। আমরাও সরবরাহ করছি। লক্ষ্মীপুর শহরে প্রতি মাসে ৫০০–৭০০ ভ্যাকসিনের চাহিদা রয়েছে। সদর হাসপাতালে ভ্যাকসিন সরবরাহ চালু হলে তা ১০০-তে নেমে আসবে।”
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অরূপ পাল বলেন, জলাতঙ্ক প্রাণঘাতী রোগ। কামড়ের পর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ভ্যাকসিন না নিলে মৃত্যুঝুঁকি অনিবার্য। তাই রোগীকে বাধ্যতামূলক চার থেকে পাঁচ ডোজ ভ্যাকসিন নিতে হয়।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে পোষা বিড়ালের আঁচড়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। যারা বিড়াল পালন করেন, তাদের আরও সতর্ক হতে হবে।
এছাড়া তিনি বলেন, প্রতিদিনই শতাধিক রোগী আসেন। কিন্তু সরকারের সরবরাহ বন্ধ থাকায় আমরা ভ্যাকসিন দিতে পারছি না। রোগীরা যদি বাইরে থেকে কিনে আনেন, তাহলে আমরা তা প্রয়োগ করে দিই।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবু হাসান শাহীন বলেন, হাসপাতালে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের কোনো মজুদ নেই। সরকার থেকেই সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। আমরা স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় ২০০ ডোজ ভ্যাকসিন কিনেছিলাম, যা ২০ দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। প্রতিটি উপজেলার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আলাদা করে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই ভ্যাকসিন সংকটের সমাধান হবে।
আরএইচ/আরএন