বরগুনার আমতলীতে প্রতিদিন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত ৮ দিনে ৬০ জন রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ডায়রিয়া ওয়ার্ডের চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যরা।
ছয় বেডের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ঠাঁই না হওয়ায় আক্রান্ত রোগীরা নিরুপায় হয়ে বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।এতে দুর্ভোগ বাড়ছে রোগীদের। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে শিশু এবং বয়স্করাই বেশী।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ০১ থেকে ০৮ এপ্রিল (বুধবার) পর্যন্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬০ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে ২৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। ছয় বেডের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বেড সংখ্যা সংকুলান না হওয়ায় নিরুপায় হয়ে রোগীরা বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে সরকারি ভাবে এ চিত্র পাওয়া গেলেও গ্রামের চিত্র ভয়াবহ।
অনেকেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে না এসে গ্রাম্য চিকিৎকের শরণাপন্ন হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।এতে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশী বলে এক বেসরকারি তথ্যে জানা গেছে।
গুলিশাখালী ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ফারুক আকন বলেন, 'প্রায় ঘরে ঘরেই এখন ডায়রিয়ায় আক্রান্তের রোগীর খবর পাওয়া যাচ্ছে।'
বুধবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা গেছে, বেডের অভাবে অনেক রোগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিসা নিচ্ছেন।
গুলিশাখালী ইউনিয়নের ডালাচারা গ্রামের আড়াই বছরের শিশু তানহা ইসলাম পাতলা পায়খানা এবং বমি নিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার মা তামান্না বেগম বলেন, 'মেয়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে।তাকে এখানে চিকিৎসার জন্য নিয়ে এসে জায়গার অভাবে এখন বারান্দায় শুয়ে চকিৎসা নিচ্ছি। এখানে ফ্যান নেই গরমে খুব কষ্ট হচ্ছে।'
চাওড়া ইউনিয়নের ইব্রাহিমপুর গ্রামের তিন বছরের জাওয়াদুল ইসলাম সোমবার বিকেলে পাতলা পায়খানা নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। বেড নেই, গরমের মধ্যে বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
তার মা আকলিমা বেগম বলেন, 'প্রচন্ড গরমে ছেলে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে।'
হলদিয়া ইউনিয়নের কুলাইচর গ্রামের ষাটোর্ধ্ব কহিনুর বেগম মঙ্গলবার সকালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। তিনি বলেন, 'সোমবার সকাল থেকে বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়েছে। বাড়ি বসে স্যালাইন খেয়ে ভালো হওয়ার চেষ্টা করেছি। ভালো না হওয়া মঙ্গলবার সকালে এখানে ভর্তি হয়েছি। এখানে বেড নেই। তাই নিরুপায় হয়ে বারান্দায় শুয়ে গরমের মধ্যে চিকিৎসা নিচ্ছি।'
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মো. হুমায়ুন ইসলাম সুমন বলেন, 'বিশুদ্ধ পানি পানের অভাব এবং প্রচন্ড গরমে তরমুজ খেয়ে শিশু এবং বয়স্ক মানুষ বেশী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে।'
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. চিন্ময় হাওলাদার বলেন, 'গত ৮ দিন ধরে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে মানুষ পানিবাহিত রোগ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে বেশী।'
ডায়রিয়ার জন্য বেড না থাকায় রোগীরা বারান্দায় চিকিৎসা নেওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, 'আক্রান্তরা চিকিৎসক এবং নার্সদের আপ্রাণ চেষ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন এটাই বড় কথা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাবার এবং আইভি স্যালাইন পর্যাপ্ত আছে।'
এসকে/এমএ