নীলফামারীর জলঢাকায় হেলে পড়া সেতুটি ৮ বছরেও সংস্কার ও মেরামত হয়নি। এর ফলে চলাচলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবারী ইউনিয়নের চরভট গ্রামের সেতুটি ৮ বছর আগে বন্যায় হেলে পড়ে। দীর্ঘ সময়েও সেতুটি মেরামত না হওয়ায় চলাচলে চরম দুর্ভোগ পড়েছেন এলাকাবাসী। আর বর্তমানে হেলে পড়া সেতুটিতে ভাঙনের সৃষ্টি হওয়ায় যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৭ সালের ১০ অগাস্ট বন্যার পানির স্রোতে সেতুটি একদিকে হেলে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তারপরও মানুষ ঝুঁকি নিয়ে সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করছে। এখন পর্যন্ত সেতুটির কোনো সংস্কার হয়নি। বর্তমানে সেতুর সঙ্গে সংযোগ না থাকায় বিকল্প পথে চলাচল করছেন পথচারীরা।
গ্রামের বাসিন্দা জিয়া বলেন, 'আমাদের নেকবক্ত গ্রামের মানুষের উপজেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম এই কাঁচা সড়ক। আর এই কাঁচা সড়কের ওপর ত্রাণের টাকায় ২০১৭ সালে নির্মাণ হয় সেতু। সে সময় বন্যার পানিতে সেতুটি হেলে পড়লে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে।'
আরেক বাসিন্দা আইয়ব বলেন, 'সড়ক ও সেতুটি চলাচল উপযোগী করতে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বালুর বস্তা ফেলে, বাঁশ ও কাঠ দিয়ে সেতু নির্মাণ করা হয়। সেই বালুর বস্তাও গতবারের বন্যায় নষ্ট হয়ে সেতুটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তাই বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে।'
আজগার আলী বলেন, 'বর্তমান বাঁশ ও কাঠের সাঁকোটিও নেই। সবাই বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে বিকল্প পথে দুই কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করেন। এই এলাকায় প্রায় ১০ হাজার লোকের বসবাস। এতে সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে প্রচুর। বিশেষ করে বর্ষা এলেই উপজেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়ে। তাই এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি ভুক্তভোগীদের।'
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম মুকুল বলেন, 'আমি যখন দায়িত্বে ছিলাম সেতুটি হেলে পড়ার দিনই তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদুল হক প্রধান ও প্রকৌশলী হারুন অর রশীদকে জানানো হয়েছিল। সেই সময় তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোসহ দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু আট বছর হয়ে গেলেও সংস্কারসহ মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।'
জলঢাকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বলেন, '২০১৫-১৬ অর্থবছরে ত্রাণের ১২ লাখ টাকায় সেতুটি নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সেতু চালু হয় ২০১৭ সালের মে মাসে। সেই সময় বন্যার পানিতে সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছিল। তবে এর কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।'
এইচএস/এমএ