আওয়ামী লীগের দোসরদের গ্রেফতারের ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাতক্ষীরা সদর দলিল লেখক সমিতির নেতারা।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে শহরের কাটিয়াস্থ সমিতির নিজস্ব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির সহ-সভাপতি মাও: মিজানুর রহমান।
তিনি বলেন, গত মাসের ৩০ মার্চ দুপুরে সাতক্ষীরা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ভারতীয় নাগরিকের নিকট হতে দলিল রেজিস্ট্রি করার সময় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আসেন সাবেক যুবলীগ নেতা জুলফিকার আলী জিন্নাহসহ তার দলবল। ভারতীয় নাগরিক মোকসেদুর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশি সাজিয়ে সদরের লক্ষ্মীদাড়ি মৌজার কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি কিনতে আসেন শহরের কাটিয়া এলাকার জুলফিকার আলী জিন্নাহ। তিনি ওই এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে।
আইনজীবির মাধ্যমে লিখিত একটি “সাধারণ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি” দলিল দাখিল করলে সাব-রেজিস্ট্রার অমিয় বাবু ভারতীয় নাগরিক মোকসেদুর রশিদের নিকট হতে দলিলের স্টেটমেন্ট নেওয়া শুরু করেন। এসময় উক্ত বিরোধী জমির অপর পক্ষ জমি রেজিস্ট্রির বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। ভারতীয় নাগরিক হিসেবে দলিল দাতার পক্ষের সকল প্রমাণাদি দাখিল করলে তা হাতে নিয়ে পর্যবেক্ষণ করার পর উক্ত দলিল রেজিস্ট্রি করতে অসম্মতি জানান সাব-রেজিস্ট্রার।
তিনি সকল কাগজ হাতে পেয়ে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দলিল রেজিস্ট্রি বন্ধ করা জেরে হট্টগোল বাঁধে এবং রেজিস্ট্রারের উপর চড়াও হয়ে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন যুবলীগ নেতা জুলফিকার আলী জিন্নাহ ও তার দলবল। একপর্যায়ে সেখানে মারপিটের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ এ সময় জুলফিকার আলী জিন্নাহ ও ভারতীয় নাগরিক মোকসেদুরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এবিষয়ে থানায় দুই পক্ষের দুটি মামলা দায়ের হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে দলিল লেখক সমিতিকে সিন্ডিকেট হিসেবে চিহ্নিত করে তথাকথিতরা মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করে জুলফিকার আলী জিন্নাহসহ তার দলীয় সন্ত্রাসীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে। যা প্রকৃত গণমাধ্যমকর্মীদের নিকট থেকে জাতি আশা করে না।
মামলায় জমি ক্রেতা ও বিতর্কিত সাবেক যুবলীগ নেতা ও আওয়ামী লীগের দোসর জুলফিকার আলী জিন্নাহ, ভারতীয় নাগরিক মোকসেদুর রশিদসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ভারতীয় নাগরিককে পরদিন আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।
অপরদিকে, জুলফিকার আলী জিন্নাহর মামলায় সদর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি শেখ মাহাবুব উল্লাহসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়াও সদর সাব-রেজিস্ট্রার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে ঘটনার পর থেকে উত্তেজনা চলছিল। জুলফিকার আলী জিন্নাহর পক্ষে গত রোববার সাতক্ষীরা শহরের নিউমার্কেট এলাকায় একটি মানববন্ধন হয়। সেখানে বক্তারা এসপি, ওসি ও বিএনপির নেতাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে মামলা প্রত্যাহার ও আসামি আটকের দুই দিনের আল্টিমেটাম দেন।
সোমবার দুপুরে দলিল লেখক সমিতির নেতারা তাদের নিজস্ব কার্যালয়ে সভাপতি শেখ মাহাবুব উল্লাহকে আসামী করায়, তাদের দায়েরকৃত মামলার আসামী জুলফিকার আলী জিন্নাহসহ অন্যান্যদের গ্রেফতারের দাবিতে আরেকটি সংবাদ সম্মেলন করেন।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, আইনজীবির দ্বারা দলিল প্রস্তুত করে তা রেজিস্ট্রির জন্য সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দাখিল করা হয়েছে। তাদের প্রতিপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে সাব-রেজিস্ট্রার দলিল রেজিস্ট্রি বন্ধ করে দেন। বিষয়টি কখন হয়েছে তাও আমরা জানি না। একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনায় সভাপতি হিসেবে ঘটনাস্থলে যাওয়ায় তাকে আসামী করা হয়েছে, যা দুঃখজনক। এছাড়াও তাকে ছিনতাইকারি হিসেবে চিহ্নিত করা অনভিপ্রেত।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, হাফিজুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে এবং সত্য সংবাদ প্রকাশের জোর দাবি জানান।
এমজেডআর/আরএন