বরগুনার পাথরঘাটায় বেওয়ারিশ কুকুরের হামলায় অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে ১১ জন চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসেন। গুরুতর আহত দুইজনকে তাৎক্ষণিকভাবে রেফার করা হয় এবং অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণের পর বাড়ি ফিরে যান।
পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. নীল রতন সরকার জানান, হাসপাতালে আগত রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে হাসপাতালে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন মজুদ না থাকায় রোগীদের বাইরে থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করতে হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর ইউনিয়নের পদ্মা, রুহিতা ও হাড়িটানা এলাকায় একটি সাদা-কালো বেওয়ারিশ কুকুর মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। পদ্মা এলাকার বাসিন্দা হিরু জমাদ্দার জানান, একই পরিবারের তিন সদস্যকে কামড় দিয়ে কুকুরটি অন্য এলাকায় চলে যায়। হাড়িটানা এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ সাহিন বলেন, তার চাচা আবুল কালামের ওপর কুকুরটি হামলা চালিয়ে গালের মাংস ছিঁড়ে নেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত বরিশালে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন না থাকায় ভুক্তভোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে বেশি দামে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনছেন বলে অভিযোগ করেছেন। স্থানীয় সচেতন মহল দাবি করছেন, দ্রুত কুকুর নিয়ন্ত্রণ ও পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন সরবরাহ না হলে এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
পাথরঘাটা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অরবিন্দ দাস বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী কুকুর নিধন দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে টিকাদানসহ মানবিক পদ্ধতি গ্রহণ জরুরি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস পাল জানান, পরিস্থিতি মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে ভ্যাকসিন সরবরাহ বৃদ্ধি এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এমএইচ/আরএন