জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা লঙ্ঘন করেছে। গণভোটের প্রস্তাব বিএনপি দিলেও (সংসদে) দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে রাতারাতি মত বদলেছে। বিএনপি তাদের দায়িত্ব পালন করেনি বলেই সংকট তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ঢাকা জেলা জামায়াত আয়োজিত এক দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলের আমির এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান জানান, সংবিধান অনুযায়ী জনগণই সর্বোচ্চ ক্ষমতার উৎস হলেও বাস্তবে তাদের মতামতকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। গণভোটের পক্ষে জনসমর্থন বেশি থাকার পরও তা অগ্রাহ্য করা হচ্ছে।
জামায়াত আমির বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ একটি রোগ। নির্দিষ্ট রোগী মারা গেলেও ফ্যাসিবাদ মারা গেছে—এটা বলা যাচ্ছে না। এটি একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে সংক্রমিত হয় এবং সেই সংক্রমণ ইতোমধ্যে আমরা লক্ষ্য করছি। জনগণের রায়কে অবলীলায় অগ্রাহ্য ও অস্বীকার করার নামই হচ্ছে ফ্যাসিবাদের সূচনা। আমরা দেশে আর ফ্যাসিবাদ চাই না। এখন যারা সরকারি দলে, তারাও বড় মজলুম ছিলেন; আমরাও বড় মজলুম ছিলাম। গোটা জাতি মজলুম ছিল।’
তিনি সাবেক ও বর্তমান মজলুমদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আসুন, আমরা আবারও জুলুমের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হই।’
জ্বালানি-সংকট প্রসঙ্গে শফিকুর রহমানের দাবি, সরকার বাস্তব পরিস্থিতি গোপন করছে। পেট্রোলপাম্পে দীর্ঘ লাইনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে এবং বেশি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি সরকারকে সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে খোলামেলা আলোচনায় বসার আহ্বান জানান।
স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় প্রশাসক নিয়োগের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, এতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অধিকার খর্ব হচ্ছে। নির্বাচনে পরাজিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো অনৈতিক বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শিক্ষার্থীদের হোম ক্লাস প্রসঙ্গে শফিকুর রহমানের আশঙ্কা, শিশুরা ডিভাইসে আসক্ত হচ্ছে। এখন আবার হোম ক্লাসের নামে ডিভাইস ধরিয়ে দিলে তারা আরও বেশি আসক্ত হয়ে যাবে। হোম ক্লাসে মেধার অপমৃত্যু ঘটবে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের মাঠপর্যায়ের কর্মসূচি শুরু হবে জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের ন্যায্য অধিকার তাদের হাতে তুলে না দেওয়া পর্যন্ত ১১ দলীয় ঐক্যের লড়াই অব্যাহত থাকবে। তবে এই আন্দোলন হবে নিয়মতান্ত্রিক এবং ইস্পাত-কঠিন।
ঢাকা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি মাওলানা মো. আফজাল হোসাইন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল মান্নান, অ্যাডভোকেট মসিউল আলম ও আব্দুস ছামাদ।
আরএন