কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনে ঘরে ঘরে সর্দি-জ্বর ও কাশির প্রকোপ বেড়েছে। চৈত্রের তীব্র গরমের মধ্যে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও ঠান্ডা বাতাসে হঠাৎ শীতল পরিবেশ তৈরি হলেও পরবর্তীতে আবার তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় প্রতিটি পরিবারেই এক বা একাধিক সদস্য সর্দি-জ্বর, কাশি ও ঠান্ডাজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্করা বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। অনেকেই স্থানীয় হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তবে অধিকাংশ রোগী বাড়িতেই প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গরম পড়ার আগমুহূর্তে মানুষ শীতের কাপড় গুছিয়ে ফেলেছিল। এমন সময় পবিত্র ঈদুল ফিতরের কয়েকদিন আগে থেকে দিনে-রাতে দফায় দফায় বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া শুরু হয়। যদিও ঈদের দিন ও পরদিন বৃষ্টি হয়নি, এ সময় তাপমাত্রা বেড়ে গরম অনুভূত হয়। এরপর আবার ৩১ মার্চ পর্যন্ত টানা বৃষ্টিপাত হওয়ায় আবহাওয়ায় শীতের আমেজ ফিরে আসে। ১ এপ্রিল থেকে আবার তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে গরম আবহাওয়া বিরাজ করছে।
চিকিৎসকদের মতে, আবহাওয়ার এ ধরনের হঠাৎ পরিবর্তনের ফলে ভাইরাসজনিত সর্দি-জ্বর ছড়িয়ে পড়া স্বাভাবিক। আক্রান্তদের মধ্যে সাধারণত নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, কাশি ও জ্বরের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে কাশি থাকায় রোগীরা দুর্বল হয়ে পড়ছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্তমানে সর্দি-জ্বর ও ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এ অবস্থায় শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলাফেরা, ঠান্ডা-গরমের হঠাৎ পরিবর্তন এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, পৌরসভার পযরাডাঙ্গা গ্রামে সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে মজিবর রহমান (৫৫), যুগলচন্দ্র (২৭), বৈদ্যনাথ রায় (৩৫) মোজাফর হোসেন (৪০), তেলিপাড়া গ্রামের আব্দুল কাদের (৪৫), নুরনবী মিয়া (২৮), বানিয়া পাড়া গ্রামের নারায়ন চন্দ্র (৪৮), জাকারিয়া মিয়া (৫৫)সহ বিভিন্ন গ্রামের অসংখ্য মানুষ।
আক্রান্তরা জানান, এ জ্বরে তারা কাহিল হয়ে পড়েছেন। হাসপাতালের আউটডোরে পরামর্শ নিয়ে বাড়ীতে বসে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: আর রাফি তামজিদ জানান, এটি ইনফ্লুলেঞ্জা ভাইরাস। বাতাসে, হাছি ও কাশিতে এটি বেশী ছড়ায়। সাধারনত মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এর প্রকোপ বেশি থাকে। প্রতিদিন শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত অসংখ্য মানুষ জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসছে। আমরা তাদের চিকিৎসা দিচ্ছি। তবে ভয়ের কোন কারণ নেই, ৫/৭ দিন পর্যন্ত এটি থাকতে পারে। আমরা এজন্য প্যারাসিটামন বা নাপা খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। তবে ঔষধের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি, ডাব এসব খেতে হবে। এ জ্বরে শরীর বেশ দুর্বল হয়। কাজেই পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। এতে আতংকিত হয়ার কোন কারণ নেই।
কেএসবি/ এসআর