ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
আন্দোলন ছাড়া আর কোনো পথ নেই: শফিকুর রহমান
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
X

সংবিধান সংস্কারের দাবিতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, “আন্দোলন ছাড়া আমাদের করার আর কোনো পথ নেই।”

বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে বিরোধী দল সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করে।

শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা আন্দোলন করব, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই করব। তবে এ বিষয়ে আমাদের ১১ দল একত্রে বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।”

তিনি জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের কথাও বলা হয়। তবে বিরোধী দল স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, তারা সংবিধান সংশোধনের নয়, বরং সংবিধান সংস্কারের পক্ষে।

জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, “গণভোটে জনগণ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। আমরা সেই রায়ের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছি। কাজেই শুধুমাত্র সংশোধনভিত্তিক কোনো কমিটি এখানে প্রাসঙ্গিক নয়।”

তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যদি সদিচ্ছা নিয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে তা অবশ্যই সংবিধান সংস্কারভিত্তিক হতে হবে।

তিনি বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে শর্ত দেওয়া হয়েছিল—কমিটিকে কার্যকর করতে হলে সরকার ও বিরোধী দল থেকে সমানসংখ্যক সদস্য রাখতে হবে। কিন্তু এ প্রস্তাবে আপত্তি জানানো হলে আলোচনা সেখানেই শেষ হয়ে যায়।

পরবর্তী সময়ে আইনমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে জানান, তিনি বিরোধী দলের প্রস্তাবে আংশিক রাজি হয়েছেন এবং সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কমিটির প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, আমি বলেছিলাম, এটা হতে হবে সংবিধান সংস্কার। আমাকে মিসকোট করা হয়েছে।

তিনি স্পিকারের কাছে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চাইলেও সেদিন নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। স্পিকার তাকে পরদিন কথা বলার সুযোগ দেন।

বিরোধী দলীয় নেতা জানান, পরদিন তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন এবং জানতে চান আলোচনার সিদ্ধান্ত কী হয়েছে। জবাবে স্পিকার অতীতের মূলতবি প্রস্তাবগুলোর উদাহরণ টেনে বলেন, এ ধরনের প্রস্তাবের মধ্যে মাত্র তিনটি গৃহীত হয়েছিল এবং বর্তমান প্রস্তাবটি গৃহীত হয়নি, আলোচনা দিয়েই শেষ হয়েছে।

এতে গভীর হতাশা প্রকাশ করে শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা সংকটের প্রতিকার চেয়েছিলাম, সংকট সৃষ্টি করতে আসিনি। কিন্তু জাতির দেওয়া ম্যান্ডেটকে অগ্রাহ্য ও অপমান করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, গণভোটের রায়কে অমান্য করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয় এবং এর প্রতিবাদেই তারা ওয়াকআউট করেছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জনগণের অভিপ্রায়কে চাপা দিতে পরিকল্পিতভাবে একটি নোটিশ আনা হয়েছে। আমরা ওই নোটিশেরও প্রতিবাদে ওয়াকআউট করেছি।

শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে তিনটি গণভোট হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই জনগণের রায় অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই প্রথম এমন হলো, যেখানে সরকারি ও বিরোধী দল সবাই একমত ছিল, সবাই ভোট চেয়েছিল, অথচ পরে এসে সেটিকে অগ্রাহ্য করা হলো। এর মাধ্যমে সংবিধানের চূড়ান্ত ভিত্তি—জনগণের রায়কেই লঙ্ঘন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সংসদের ভেতরেই বিষয়টির সমাধান হলে জনগণ আনন্দিত হতো। কিন্তু তা না হওয়ায় এখন তাদের সামনে একমাত্র পথ—জনগণের কাছে ফিরে যাওয়া।
আমরা জনগণের কাছেই ফিরে যাব এবং তাদের সঙ্গে নিয়ে গণভোটের দাবি বাস্তবায়নের কর্মসূচি গ্রহণ করব।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, অতীতের মতো এবারও জনগণ তাদের পাশে থাকবে এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থে সবাই ঐক্যবদ্ধ হবে।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছি, সংসদকে ত্যাগ করিনি। আমরা সংসদেরই অংশ। কিন্তু আন্দোলন ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ নেই।

১১ দল দ্রুত একত্রে বসে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হলে বলেও জামায়াত আমির উল্লেখ করেন।

এসআর


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝