চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাম রোগের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। এতে স্বাস্থ্য বিভাগ ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত কয়েক সপ্তাহে শিশু রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে জেলায় হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে শতাধিক শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের বেশিরভাগের মধ্যে উচ্চ জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা যাচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, অনেক শিশুর অপুষ্টি এবং টিকা অসম্পূর্ণ থাকা সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, এমআর (Measles-Rubella) টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। যেসব এলাকায় বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে, সেখানে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে শিশুদের জন্য আলাদা পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় একজন আক্রান্ত শিশু থেকে দ্রুত অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই জ্বরের সঙ্গে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া, আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা এবং টিকার ডোজ সম্পূর্ণ করা জরুরি।
এদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতাল-এর চিকিৎসক ডা. মাহফুজ রায়হান জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি ৯০ জন রোগীর মধ্যে ১৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এবং একজনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। বর্তমানে ৭৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, শিশুদের ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে এমআর টিকা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি থেকে যেতে পারে।
জেপি/ এসআর