মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্বজনরা চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় এখনও চাঞ্চল্য বিরাজ করছে।
নিহত ঐশি রবিদাস শমসেরনগর চা বাগানের বাসিন্দা বাবুল রবিদাসের মেয়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাথাব্যথাজনিত সমস্যার কারণে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে ক্যামেলিয়া ডানকান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, রাতে হঠাৎ শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলেও যথাসময়ে কোনো চিকিৎসক পাওয়া যায়নি।
ঐশির কাকা রঞ্জিত রবিদাস জানান, “রাতে তার অবস্থা গুরুতর হয়ে গেলে আমরা বারবার জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাকতে বলি। কিন্তু তখন কোনো ডাক্তার পাওয়া যায়নি। আমরা দ্রুত অন্যত্র রেফার করার অনুরোধ করলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দেয় যে এখানে চিকিৎসা সম্ভব।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিবাদ জানাতে গেলে রোগীর বাবাকে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরদিন সকালে ঐশির মৃত্যু হয়।
ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও চা শ্রমিকরা দুপুরে হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা মিছিল ও সমাবেশ করে হাসপাতালের প্রধান ডা. আনোয়ারুল হকের পদত্যাগ দাবি করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
চা শ্রমিক যুব নেতা সজল কৈরি বলেন, “এটি চরম অবহেলার ফল। আমরা দায়ীদের শাস্তি এবং হাসপাতাল পরিচালকের পদত্যাগ দাবি করছি।”
হাসপাতালের সহকারী সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার ডা. বাহাউদ্দিন বলেন, “আমরা রাতেই রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করতে চেয়েছিলাম। তবে অভিভাবকরা তখন রাজি হননি এবং সকালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সকালে রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তিনি মারা যান।”
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আউয়াল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “শিশুটির মৃত্যুর পর স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দাবিদাওয়া বিবেচনার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।”
এসএস/আরএন