নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার আৎকাপাড়া এলাকায় যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের মেসার্স গিরিপথ ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড সার্ভিস সেন্টারে অকটেন ও পেট্রোলের সংকট দেখা দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহন চালকরা।
গত কয়েকদিন ধরে পাম্পটিতে পেট্রোল ও অকটেন না থাকায় মোটরসাইকেল, সিএনজি ও প্রাইভেটকার চালকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তেল নিতে এসে অনেক চালক খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। কেউ কেউ দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও পেট্রোল পাননি। এতে জরুরি কাজেও যানবাহন চালাতে পারছেন না অনেকেই।
পাম্পের ক্যাশিয়ার জানান, অকটেন ও পেট্রোল একেবারেই নেই। তাই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও চালকদের ফিরে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয় মোটরসাইকেল চালকরা জানান, পূর্বধলায় এটি অন্যতম প্রধান ফিলিং স্টেশন হওয়ায় এখানে পেট্রোল ও অকটেন না থাকলে তাদের দূরের পাম্পে যেতে হয়। এতে সময় ও অতিরিক্ত খরচ—দুটিই বাড়ছে। সেখানে গিয়েও জ্বালানি পাওয়া যাবে কি না, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
একজন মোটরসাইকেল চালক বলেন, “সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু পেট্রোল বা অকটেন পাইনি। এখন অন্য পাম্পে যেতে হবে—সেখানেও পাব কি না জানি না।”
স্থানীয় আরেক মোটরসাইকেল চালক আদম আলী বলেন, “গত ২-৩ দিন ধরে কোনো পেট্রোল বা অকটেন দেওয়া হচ্ছে না।”
পাম্পের ম্যানেজার হাসান ফকির বলেন, সরবরাহ কম থাকায় সাময়িকভাবে পেট্রোল ও অকটেনের সংকট দেখা দিয়েছে। “গত দুই দিন ধরে সীমিত আকারে ১০০ টাকার করে জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ২৫০ লিটার পেট্রোল পাওয়া যায়। তবে অনেক চালক একাধিকবার নিয়ে যাওয়ায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তেলের কোনো সংকট নেই,”—তিনি দাবি করেন। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতি উন্নত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে পাম্পটি প্রায়ই বন্ধ থাকে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—প্রতিদিন যে তেল ও পেট্রোল বরাদ্দ আসে, তা কোথায় যাচ্ছে?
এদিকে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় চালক ও ভুক্তভোগীরা।
এআই/আরএন