ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী পরিবহনের চালক এবং সাধারণ যাত্রীরা। ডিজেলের ঘাটতির কারণে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না পরিবহন চালকরা। এতে একদিকে যেমন পরিবহন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে ট্রাকে বহন করা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক ট্রাক ও বাস মাঝপথেই থেমে যেতে হচ্ছে। এতে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। কখনও আবার বিকল্প পরিবহন না পেয়ে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী যাত্রীরা এমন পরিস্থিতিতে চরম বিপাকে পড়ছেন।
সরেজমিনে মহাসড়কের সোনারগাঁওয়ে ১৪টি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ স্টেশনে অকটেন নেই বলে নোটিশ সাঁটানো হয়েছে। কিছু স্টেশনে ডিজেল পাওয়া গেলেও বাকি স্টেশনগুলো বন্ধ থাকায় রশি বা বাশ দিয়ে প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে।
পণ্যবাহী ট্রাক চালক আমজাদ হোসেন মোল্লা জানান, কাঁচপুর থেকে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য লোড করে চট্টগ্রামের কক্সবাজারের চকরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। কাঁচপুর থেকে চকরিয়া যেতে প্রায় ৬০–৭০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। কিন্তু একাধিক পাম্প থেকে ১০ লিটারও বেশি ডিজেল পাওয়া যায় না। ফলে একাধিক পাম্পে গিয়ে তেল নিতে হচ্ছে, যার কারণে পণ্য সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফিলিং স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অনেক সময় ট্রাকে থাকা পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
বাস চালক মো. সবুজ মিয়া বলেন, “ডিজেলের সংকটের কারণে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বাস চালানো সম্ভব হচ্ছে না। মাঝপথে একাধিক পাম্পে তেল নিতে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে, যার কারণে যাত্রীরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। এতে অনেক সময় যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে চালকের ওপর চড়াও হচ্ছেন।”
এদিকে সোনারগাঁওয়ের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে সীমিত পরিমাণে ডিজেল সরবরাহ করা হলেও অকটেন ও পেট্রোলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও অল্প পরিমাণে অকটেন ও পেট্রোল পাওয়া গেলেও চাহিদার তুলনায় তা খুবই কম। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই জ্বালানি ফুরিয়ে যাচ্ছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে কাঙ্খিত জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন না এবং ফিরে যেতে হচ্ছে।
ঔষধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ মোটরসাইকেল চালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসেছি। আমার কর্মস্থল চাঁদপুর। ছুটি শেষ হওয়ার কারণে মোটরসাইকেলে অকটেন না পেয়ে গন্তব্যে যেতে পারছি না। অফিস থেকে বারবার ফোন আসছে। কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অকটেন পাওয়া যায়নি। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান দরকার।”
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, “ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি সংকট থাকার কথা নয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। তবে সীমিত পরিমাণে জ্বালানি সরবরাহের নিয়ম রয়েছে। কোনো ফিলিং স্টেশন ইচ্ছাকৃতভাবে জ্বালানি সরবরাহ না করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এমএইচ/আরএন