জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, 'মানুষ রাজনীতিবিদ শুনলে সমাজে ভিন্ন একটা শ্রদ্ধার জায়গা তৈরি করে দিত, এখন সে জায়গাটা রাজনীতিবিদরা নিজের কর্মকাণ্ডের কারণে হারিয়ে ফেলছে।'
রোববার বেলা ১১টার দিকে সিলেট সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের আমির বলেন, 'এখনো কিন্তু কালো ছায়া রয়েছে। সমাজের সর্বত্রে অনিয়ম বিশৃঙ্খলা সংকীর্ণতা প্রতিহিংসা এখনো বিরাজ করছে, মাত্রা যাই হোক। অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলেন, শুনলে মনে হয় যে আসমানের ফেরেশতা জমিনে নেমে এসেছি আমরা। কিন্তু বাস্তবে যখন মানুষ মিলায় তখন ওই জিনিসটা আর দেখে না। কথার সাথে কাজের মিল খুঁজে পায় না। তখন মানুষের অশ্রদ্ধা তৈরি হয়।'
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান যতক্ষণ পর্যন্ত কথায় কাজে মিল রেখে জাতিকে আস্থায় না আনতে পারবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা বিশ্বাস করি না যে একটা ভালো জাতি গঠন হবে। এই জায়গাটা অবশ্যই তৈরি করার মৌলিক দায়িত্ব রাজনীতিবিদদের।'
শফিকুর রহমান বলেন, 'আমাদের সরকারি দলের ভাই এবং বন্ধুরা সংবিধানের কথা বলছেন। দীর্ঘদিন তারাও মজলুম ছিলেন, আমরাও মজলুম ছিলাম। আমাদের ওপর তো ওই সংবিধানের দোহাই দিয়েই তো জুলুম করা হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া তিনি তো নিজেই বলেছিলেন- জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে এই সংবিধান আমরা ছুড়ে ফেলে দেব। কেন বলেছিলেন? আবার অনেকে বলছেন ৭২ এর সংবিধান পরিবর্তন করা যাবে না। আরে ৭২ এর সংবিধান তো বহু আগেই পরিবর্তন হয়ে গেছে। স্বয়ং শেখ মুজিবের হাতেই পরিবর্তন হয়েছে। ৭২ এ সংবিধানে কী বাকশাল ছিল? বাকশাল তো শেখ মুজিবুর রহমান নিজে করেছে।'
জামায়াতের আমির বলেন, 'ভয়ের সংস্কৃতি সর্বত্র যেভাবে তৈরি হয়েছিল, এটাই সমাজকে পুরোপুরি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। আমরা সামাজিক শৃঙ্খলার দিক থেকে, অর্থনৈতিক দিক থেকে, সাংস্কৃতিক দিক থেকে সকল দিক থেকে একদম তলানিতে পড়ে গিয়েছিলাম। এখান থেকে জাতি উঠে এসেছে। কিন্তু ঘুরে দাঁড়ায়নি। ঘুরে দাঁড়াতে হবে।'
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'গত নির্বাচনে আমরা খুব বেশি কথা বলি নাই। আমরা বলেছিলাম যে একটা দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, ইনসাফপূর্ণ সমাজ গঠন। আলহামদুলিল্লাহ দেশের মানুষ আমাদেরকে সম্মানিত করে আমাদের ডাকে বিপুল সাড়া দিয়েছে। নির্বাচনের রেজাল্ট যা হয়েছে তা নিয়ে কথা আছে। কিন্তু নতুন ধারার সংস্কৃতি দেশে চালু করতে চাই বলেই আমরা সাথে সাথে এই নির্বাচনকে প্রত্যাখান করিনি। আমরা বলেছি বুকে চাপ নিয়ে আমরা মেনে নিলাম। আমরা চাই ইতিবাচক ধারার রাজনীতি প্রবর্তন।'
রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে আমাদের কোনো নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নাই, কিন্তু ব্যক্তি সম্পর্কে আছে। ব্যক্তি আর প্রতিষ্ঠানকে আলাদা ভাবে দেখতে হবে। আমরা ওই জায়গাটায় সরকারি দলকে অনুরোধ করবো জাতিকে মুক্তি দেওয়া হোক।'
সংস্কার ও গণভোট প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, 'গণভোট ৬৮ শতাংশ ভোটারের উপরেও ভোট দিয়েছেন। তার মানে তারা সংস্কার চান। আমরা আশা করছি গণতন্ত্র এবং জনগণের অভিপ্রায় অভিমত রায় এটাকে সম্মান করে সরকারি দল অবিলম্বে তারা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন। নইলে যেভাবে বিশেষ করে তিন তিনটা নির্বাচনে নির্বাচনের প্রতি মানুষের অনাস্থা তৈরি হয়েছিল, এটা আরও মারাত্মক আকার ধারণ করবে।'
মতবিনিময় সভায় সিলেটের সাংবাদিকরা ছাড়াও সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াতের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।