ঈদকে কেন্দ্র করে সপ্তাহব্যাপী টানা ছুটিতে হ্রদ-পাহাড়মুখী হচ্ছেন পর্যটক ও ভ্রমণপিপাসুরা। শীত শেষে বসন্তের মাঝামাঝি এই সময়টাতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠতে যাচ্ছে পাহাড়।
স্থানীয় পর্যটন খাতসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, গত বছরের চেয়ে এবার ঈদে রাঙামাটিতে পর্যটকদের সমাগম বাড়বে। এদিকে, ইতোমধ্যে স্থানীয় হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট-কটেজের মালিকরা পর্যটকদের আগমনকে স্বাগত জানাতে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। বেশির ভাগ হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট-কটেজ প্রায় শতভাগ বুকড।
পাহাড়ি জেলা রাঙামাটিতে পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান হলো নয়নাভিরাম কাপ্তাই হ্রদ। পাহাড়ি এ জেলার পর্যটনশিল্প গড়ে উঠেছে অনেকটাই কাপ্তাই হ্রদকে কেন্দ্র করে। এখানকার রিসোর্ট-কটেজ, হোটেল-মোটেল এবং পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্রগুলো হ্রদ ঘেঁষেই গড়ে উঠেছে। রাঙামাটির আকর্ষণীয় পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে আসামবস্তি ব্রিজ, আসামবস্তি-কাপ্তাই সংযোগ সড়ক, বার্গী লেকভ্যালি, রেঙ রিসোর্ট, বড়গাঙ, বেরাইন্না, গাঙ সাবারাং, পর্যটন ঝুলন্ত সেতু, পলওয়েল পার্ক, ডিসি বাংলো পার্ক, সওজের লেকভিউ গার্ডেন, রাঙাদ্বীপ রিসোর্ট, রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্ট, জুমকিং ইকো রিসোর্ট প্রভৃতি।
রাঙামাটি শহর ও কাপ্তাই হ্রদকেন্দ্রিক এসব পর্যটনকেন্দ্রের বাইরেও জেলার কাপ্তাই উপজেলায় বেশ কিছু পর্যটন ও পিকনিক স্পট রয়েছে। তবে রাঙামাটির মধ্যে সবচেয়ে বেশি পর্যটক সমাগম হয় জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে। যদিও সাজেকে যাতায়াতের পথ খাগড়াছড়ি জেলা হয়ে, যে কারণে সাজেক ভ্যালির পর্যটন অর্থনীতির আংশিক সুবিধা পান খাগড়াছড়ির উদ্যোক্তারাও।
এদিকে, ঈদ ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে রাঙামাটির পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, আমাদের মোটেল ও কটেজ মিলে মোট ৮৭টি রুম রয়েছে, যেখানে ১৭০ জন থাকতে পারবেন। ২২-২৮ মার্চ পর্যন্ত ৮০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে। রাঙামাটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের মানসম্মত সেবা দিতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। বিশেষ করে পর্যটনের ঝুলন্ত সেতু রং করা হয়েছে। এবার ঈদকেন্দ্রিক ছুটি বেশি, পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিবেশ ও আবহাওয়া—সব দিক অনুকূলে রয়েছে। সার্বিক দিক বিবেচনায় এবছর রাঙামাটিতে রেকর্ডসংখ্যক পর্যটক সমাগম হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।
রাঙামাটি জেলা হোটেল-মোটেল বহুমুখী সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি ও রিজার্ভ বাজার এলাকার হোটেল সৈকতের স্বত্বাধিকারী মো. মঈনুদ্দিন সেলিম বলেন, রমজান মাসে পর্যটক কিছুটা কম আসেন। তবে ঈদকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের সমাগম বাড়ে। এবারও ঈদ ঘিরে টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে রাঙামাটিতে বিপুল পরিমাণ পর্যটকের উপস্থিতি হতে পারে। বিশেষত রাঙামাটিতে এখন পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্রের সংখ্যাও বেড়েছে।
রাঙামাটি রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও বার্গী লেকভ্যালির স্বত্বাধিকারী সুমেত চাকমা বলেন, আমাদের বার্গী লেক ভ্যালিতে ১৮-২৯ মার্চ পর্যন্ত কোনো রিসোর্ট খালি নেই—সব বুকিং হয়ে গেছে। আমাদের অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যভুক্ত ১৩টি রিসোর্ট রয়েছে, সেগুলোতেও ২২-২৮ মার্চ পর্যন্ত সব বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। বলা যায়, ছোট-বড় প্রায় সব রিসোর্টেই বুকিং নিশ্চিত হয়েছে। যেহেতু এবার ছুটির দিন বেশি, সে কারণে পর্যটকরাও লম্বা সময় পেয়ে পাহাড়মুখী হচ্ছেন।
ট্যুরিস্ট পুলিশ রাঙামাটি জোনের ইন্সপেক্টর মো. তারিকুল আলম জুয়েল বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে এবছর রাঙামাটিতে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম ঘটতে পারে। ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যটক সেবা ও নিরাপত্তায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এছাড়া আমাদের টহল টিমের পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যটন স্পট ও নৌঘাটে ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন। রাঙামাটি যেহেতু একটি পর্যটন এলাকা, তাই আমরা পর্যটন খাতসংশ্লিষ্টদেরও বলছি পর্যটকদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে, যেন তারা কোনো নেতিবাচক পরিস্থিতির শিকার না হন।
এসআই/আরএন