ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিকে সামনে রেখে ইতিহাস আর প্রকৃতির মিলনে সমৃদ্ধ বাগেরহাটে চলছে তৎপর প্রস্তুতি। সুলতানী আমলের অনন্য স্থাপত্য নিদর্শন ষাটগম্বুজ মসজিদ এবং বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন এই দুই বিশ্ব ঐতিহ্য কেন্দ্রিক এলাকায় ছুটির দিনে পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে।
ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ প্রাঙ্গণে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সাজসজ্জার কাজ। মসজিদের কাস্টডিয়ান মো. জায়েদ জানান, এবছর সরকারি ছুটি দীর্ঘ হওয়ায় দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
ঐতিহাসিক স্থানগুলোর মধ্যে সিংগাইর মসজিদ, নয়গম্বুজ মসজিদ, জিন্দাপীর মসজিদ, অযোধ্যা (কোদলা) মঠসহ জেলা জুড়ে ৯টি প্রত্ননিদর্শন পর্যটকদের জন্য প্রস্তুত। এছাড়া হযরত খানজাহান আলীর (রহ.) মাজার এবং বিশাল দিঘি এলাকাতেও নিরাপদ ভ্রমণের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য সুন্দরবনে ৭টি প্রধান পর্যটন কেন্দ্র করমজল, হারবাড়িয়া, কটকা, কচিখালী, দুবলার চর, আন্দারমানিক ও আলীবান্দা সাজানো হয়েছে। করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রকে বিশেষভাবে সাজিয়ে পর্যটকদের জন্য নতুন আকর্ষণ যোগ করা হয়েছে।
বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরি জানান, সুন্দরবনে ভ্রমণ পিপাষু পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বনরক্ষীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বনের জীববৈচিত্র রক্ষা ও পরিবেশ সুরক্ষিত রেখে তিনি পর্যটকদের ভ্রমন করার পরামর্শ প্রদান করেন।
এছাড়া বেসরকারি পর্যটন স্পটগুলোতেও উৎসবের আয়োজন বাড়ানো হয়েছে। সদর উপজেলার হাকিমপুরে ভারতের তাজমহলের আদলে নির্মিত ‘চন্দ্রমহল’ ইকোপার্ক, বারাকপুরের সুন্দরবন রিসোর্ট সেন্টার এবং শহরের দশানী পার্কে নতুন রাইড ও বিনোদনের উপকরণ যোগ করা হয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশের উপ-পরিদর্শক সারাফাত জানান, জেলার সব পর্যটন স্পটে পুলিশের বিশেষ টিম মোতায়েন থাকবে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এভাবেই ইতিহাসের গাম্ভীর্য আর সুন্দরবনের সবুজে ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে পুরোপুরি প্রস্তুত বাগেরহাটের ১৭টি দর্শনীয় স্থান।
এএটি/ এসআর