ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
নবীনগরে প্রকাশ্যে মাদকের রমরমা ব্যবসা, নীরব প্রশাসন
✎ মিঠু সূত্রধর পলাশ
⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
X

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার পৌর এলাকা ও ২১টি ইউনিয়নে প্রকাশ্যে মাদকের রমরমা ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গ্রাম থেকে গ্রাম, এমনকি পৌর এলাকার প্রধান সড়কেও দিন-রাত নির্বিশেষে মাদক কেনাবেচা চলায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের দাবি, নবীনগর এখন কার্যত ‘মাদকের রাজধানী’তে পরিণত হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পৌর এলাকার ভোলাচং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঋষিপাড়া, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নারায়ণপুর, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদর বাজার, হাসপাতালপাড়া, কলেজপাড়া ও আদালতপাড়া, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মনতলি, করিমশাহ, উত্তরপাড়া ও বিজয়পাড়া, ২ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিমপাড়া, বালুরচর, পদ্মপাড়া ও পঞ্চবটি এলাকায় নিয়মিত মাদক বেচাকেনা হচ্ছে। এছাড়া উপজেলার বড়াইল, কাইতলা, নবীনগর পশ্চিম, নাটঘর, ইব্রাহীমপুর, জিনোদপুর, সাতমোরা, সলিমগঞ্জ, বড়িকান্দি ও শিবপুর ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামেও প্রতিদিন ইয়াবা, গাঁজা ও দেশীয় চোলাই মদসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের লেনদেন হচ্ছে বলে জানা গেছে।

পৌর এলাকার ভোলাচং ঋষিপাড়া ও বড়াইল ইউনিয়নের গৌসাইপুর গ্রামে গড়ে উঠেছে স্থায়ী ‘ডিলিং পয়েন্ট’, যেখানে প্রতিদিন মাদকসেবী ও কারবারিদের জমায়েত হয়। এছাড়া শিবপুর-রাধিকা সড়ককে মাদক পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে উল্লেখ করছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সমাজের পিছিয়ে পরা হরিজন সম্প্রদায় ঋষি সম্প্রদায়ের লোকজনদের ব্যবহার করে দেশিয় চোলাই মদের অস্থায়ী কারখানা তৈরি করেছে স্থানীয় প্রভাবশালী মাদক কারবারিরা। 

এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করে জানান, মাদক সেবন করার সবচাইতে নিরাপদ জায়গা হলো ভোলাচং ঋষি পাড়া। এই ঋষি পাড়া দখলে রেখেছেন এলাকার মাদক কারবারিরা। মাদক কারবারিরা এই ঋষি পাড়াতে বসে মাদক কারবারির পরিকল্পনা, টাকার ভাগ-বাটোয়ারা করেন। এই চক্রটি এতটাই ভয়ংকর যে, প্রতিবাদকারীদের বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দিয়ে চুপ করিয়ে দেওয়া হয়।

নবীনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন শান্তি বলেন, এলাকাটি মাদকের আগ্রাসনে জর্জরিত। চোখের সামনে তরুণ প্রজন্ম শেষ হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন চাইলে একদিনেই এই চক্র ভেঙে দিতে পারেন, কিন্তু তেমন সদিচ্ছা দেখা যাচ্ছে না।

নবীনগর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আবু মোছা বলেন, মাদক শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো সমাজকে গ্রাস করছে। মাদক আগ্রাসনের কারণে এলাকায় দিনদুপুরে ছিনতাই ও চুরি বেড়ে গেছে। 

নবীনগর মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ কান্তি কুমার ভট্টাচার্য বলেন, এই এলাকার সামাজিক বন্ধন, নিরাপত্তা ও নৈতিকতা সব কিছুই ভেঙে পড়েছে। মাদকের ছোবলে শিশু-কিশোরেরাও ঝুঁকির মুখে। জরুরি ভিত্তিতে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের বিকল্প নেই। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদিচ্ছাই দুর্বৃত্তদের হাত থেকে এলাকাটিকে রক্ষা করতে পারে।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাক বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি চালু রয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে কিছু তথ্য পেয়েছি। শিগগিরই অভিযান চালিয়ে চক্রটি গুড়িয়ে দেব। এছাড়াও আরো কোন তথ্য থাকলে আমাদের দিয়ে সহযোগিতা করার আহবান করছি। তথ্য দাতার নাম গোপন থাকবে।

এসআর


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝