মালদ্বীপে দিগুড়া আইল্যান্ডে একটি নির্মাণাধীন সাইটের গেস্টহাউসে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মো রবিন মোল্লা (২৫) নামের চরফ্যাশনের এক প্রবাসী যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দিবাগত রাত প্রায় ২টায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একই রুমে থাকা আরো চারজন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশটির রাজধানী মালেতে পাঠানো হয়েছে।
নিহত রবিন মোল্লার বাড়ি ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার আসলাম পুর ইউনিয়নের খোদেজাবাগ গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে। তিনি মোল্লা বাড়ির মো: সিরাজ মোল্লা ও আরজু বেগমের ছেলে। প্রায় দুই বছর আগে জীবিকার তাগিদে মালদ্বীপে পাড়ি জমান রবিন।
পরিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে শ্রমিকদের থাকার গেস্ট হাউসে ফেরেন রবিন। রাতে পরিবারের সঙ্গে কথাও হয় তার। এরপর রাত ২টার দিকে গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে রবিন মোল্লাসহ সাতজন গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে মালদ্বীপের ধিগুড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিনসহ পাঁচজন মারা যান। গুরুতর আহত দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশটির রাজধানী মালেতে পাঠানো হয়েছে।
এলাকাবাসি জানান, পরিবারের টানাপোড়েনের মধ্যেই বছর দুয়েক আগে ব্যাংক ঋণ ও ধার করা টাকায় প্রবাসে গিয়েছিলেন রবিন। নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে চলছিল তার পরিবার। অবিবাহিত রবিন প্রবাসে থেকে আয় করে ঋণ পরিশোধ করে দেশে ফিরে একটি ঘর নির্মাণ ও বিয়ে করার স্বপ্ন দেখতেন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় তার সব স্বপ্ন মুহূর্তে শেষ হয়ে গেছে।
নিহতের বাবা মো সিরাজ মোল্লা জানান, সেদিন রাতে ছেলে খাবার খেয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত প্রায় দুইটার দিকে তাদের কক্ষে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। এতে আমার ছেলেসহ ওই কক্ষে থাকা চারজন ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে অন্য প্রবাসীরা আমাদেরকে ছেলের মৃত্যুর বিষয়টি জানায়। রবিনের মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছালে পরিবার ও এলাকাজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। দ্রুত সময়ের মধ্যে রবিন মোল্লার মরদেহ দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেছে নিহতের পরিবার।
এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এমাদুল হোসেন বলেন, নিহতের পরিবার মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা চাইলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।
এসএফ/এসআর