নারায়ণগঞ্জ শহরে দায়িত্ব পালনকালে পিস্তল, ম্যাগজিন ও গুলি ছিনতাইয়ের ঘটনায় অবহেলার অভিযোগে পুলিশ কর্মকর্তা লুৎফর রহমানকে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করা হয়েছে। তাকে শীতলক্ষ্যা পুলিশ ফাঁড়ি থেকে সরিয়ে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব পালনকালে অস্ত্র খোয়া যাওয়ার ঘটনায় এএসআই লুৎফর রহমানকে ক্লোজড করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। মামলার অপর দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত কর্মকর্তার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে এএসআই লুৎফর রহমানের দোষ প্রমাণ হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং মামলা হবে।’
এর আগে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, ‘ডিউটিরত অবস্থায় অস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এএসআই লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
গত সোমবার (০৯ মার্চ) ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনের সামনে পোশাক পরিহিত অবস্থায় মোটরসাইকেলে টহল দিচ্ছিলেন শীতলক্ষ্যা পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লুৎফর রহমান। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা তিন ছিনতাইকারী তার ওপর হামলা চালায় এবং গুলিভর্তি পিস্তলটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর পরই জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালিয়ে মিশাল নামের ছিনতাইকারী দলের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বন্দর উপজেলার উইলসন রোড এলাকায় পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর শপিং ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় ছিনতাই হওয়া পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া অস্ত্র ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি চাপাতি এবং দুটি ছুরিও উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় এএসআই লুৎফর রহমান বাদি হয়ে দস্যুতার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
সোমবার রাতে পৃথক অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে তিন জন ছিনতাইকারীকে আটক করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের মধ্যে দু'জনের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদেরকে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এসএস/এমএ