ভোলার চরফ্যাশনে অবৈধ ইট ভাটার দৌরাত্ম্যে দ্রুত ধ্বংস হচ্ছে বনজ সম্পদ। গাছ পুড়িয়ে ইট তৈরির ফলে বাড়ছে পরিবেশ দূষণ, যা স্থানীয়দের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। প্রশাসনের করণীয় না থাকায় স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
ভোলা পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চরফ্যাশন উপজেলায় বর্তমানে ৩৩টি ইট ভাটা রয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি অনুমোদনহীন অর্থাৎ কোনো পরিবেশ ছাড়পত্র বা লাইসেন্স নেই। বাকি ১৬টি ইট ভাটায় জিগজ্যাগ প্রযুক্তি ব্যবহার করার কথা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রমাণ নেই।
উপজেলার ২১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেশ কয়েকটি ইট ভাটায় বিপুল পরিমাণ কাঠ মজুত রাখা হয়েছে, যা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই কার্যক্রম বন্ধে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই।
উপজেলার চরমানিকা ইউনিয়নের চরকচ্ছপিয়া ২ নম্বর ওয়ার্ডে কাজী ব্রিকসের পাশে বসবাসরত মমতাজ বেগম বলেন, 'কাজী ইট ভাটার কালো ধোঁয়া আমাদের আশপাশের পরিবেশ ভারী করছে। শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, কাশি ও চোখে জ্বালাপোড়া বেড়ে গেছে। ফুসফুসজনিত সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। আমরা চাই ভাটা বন্ধ হোক।'
স্থানীয় কৃষক বাবুল বলেন, 'ইট ভাটার ধোঁয়ার কারণে ইরি ধান ও শাক-সবজি চাষ করা যাচ্ছে না।'
তিনি দাবি করেছেন, অবৈধ ইট ভাটাগুলো দ্রুত বন্ধ করতে হবে। কাঠ পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং নিয়মিত মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা
করতে হবে।
চরকচ্ছপিয়ার কাজী ব্রিকফিল্ডের মালিক মো. জাহাঙ্গীর কাজীর তার ইট ভাটার অনুমোদন আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমরা পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনকে টাকা দিয়ে ইট ভাটা চালাই। আমাদের ভাটা বন্ধ করার ক্ষমতা কারোর নেই।'
ভোলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তোতা মিয়া ভাটা মালিকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'অবৈধ ভাবে কাঠ ব্যবহার করে ইট ভাটা পরিচালনা সম্পূর্ণ বেআইনি। সরকার পরিবেশবান্ধব জিগজ্যাগ প্রযুক্তি ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছে। আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমাদুল হোসেন বলেন, 'বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। পরিবেশের ক্ষতি করে কোনো ধরনের ইট ভাটা পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না। আমরা পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনা করব।'
এসএফ/এমএ