Monday | 1 June 2026 | Reg No- 06
Epaper | English
   
English | Monday | 1 June 2026 | Epaper
BREAKING: প্রবীণ আ.লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন      পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ      ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে গ্রাহক-পুলিশ সংঘর্ষ      ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের      মরণোত্তর জাতিসংঘ পদক পাচ্ছেন ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী      বাজেটের আগে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এক ধরনের ধোঁকাবাজি: জামায়াত আমির      মিয়ানমারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৫৫      

পেকুয়ায় সড়কের কাজ বন্ধ রেখে লাপাত্তা ঠিকাদার, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৫:২১ পিএম   (ভিজিট : ৪৬৯)

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মইয়্যাদিয়া স্টেশন থেকে গোঁয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত (মইয়্যাদিয়া–রাবারড্যাম সড়ক) আরসিসি সড়ক উন্নয়ন কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদার কাজ শুরু করলেও মাঝপথে ফেলে রাখায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী।

জানা যায়, প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৮৮০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩ মিটার প্রস্থের এই সড়কটির উন্নয়ন কাজ গত বছরের আগস্ট মাসে শুরু হয়। অক্টোবর পর্যন্ত আংশিক কাজ করার পর লিপি এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক একরাম বাকি কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে যান। ফলে প্রায় পাঁচ মাস ধরে সড়কের কাজ বন্ধ রয়েছে।

বর্তমানে সড়কটি বালু ও মাটির স্তূপে পরিণত হয়েছে। এতে করে যানবাহন চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে রোগী, পথচারী ও শিক্ষার্থীদের। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। আগামী বর্ষা মৌসুমে সড়কটি সম্পূর্ণ চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বটতলীয়া পাড়ার বাসিন্দা জিয়া উদ্দিন বলেন, রাস্তার কাজ শুরু হওয়ায় আমরা খুব খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু কিছুদিন কাজ করে ঠিকাদার চলে যাওয়ায় এখন আগের চেয়েও বেশি কষ্ট হচ্ছে। বালুর কারণে হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে গেছে।

অটোরিকশা চালক আরাফাত বলেন, আগে এই রাস্তা দিয়ে সহজে গাড়ি চালাতে পারতাম। এখন বালুতে গাড়ি বসে যায়। অনেক সময় যাত্রী নামিয়ে গাড়ি ঠেলতে হয়। এতে আমাদের আয়ও কমে গেছে।

মুদির দোকানদার মো. নাছির উদ্দিন বলেন, রাস্তার কারণে এখন লোকজন কম আসে। ব্যবসাও আগের মতো নেই। দ্রুত কাজ শেষ না হলে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে।

ব্যবসায়ী আবু ছিদ্দিক বলেন, রাস্তার এই অবস্থায় রোগী বা গর্ভবতী নারী নিয়ে যাওয়া খুব কষ্টকর। জরুরি পরিস্থিতিতে বড় বিপদ হতে পারে।

স্থানীয় শিক্ষক মাস্টার আলমগীর বলেন, স্কুলের অনেক শিক্ষার্থী এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। বালু আর অসমান রাস্তার কারণে তারা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। দ্রুত কাজ শেষ করা খুবই জরুরি।

কৃষক শফি আলম বলেন, প্রায় পাঁচ মাস ধরে রাস্তার কাজ বন্ধ। এলাকাবাসী বারবার বললেও কোনো সমাধান হচ্ছে না।

স্থানীয় বাসিন্দা বুলু আরা বেগম বলেন, গর্ভবতী নারী, অসুস্থ রোগী ও বৃদ্ধদের এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর। কিছুদিন আগে সড়কের ওপর এক নারী সন্তান জন্ম দেন। দ্রুত কাজ শেষ না হলে মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।

পাইলট স্কুলের শিক্ষার্থী সজীব জানান, বটতলি থেকে হেঁটে আমাদের গোঁয়াখালী পাইলট স্কুলে যেতে হয়। রাস্তার কাজ বন্ধ থাকায় বর্ষাকালে স্কুলে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদার একরাম বলেন, আমি প্রায় এক কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন করেছি। কিন্তু এখনো কোনো বিল উত্তোলন করিনি। সড়কের স্টিমেটে কিছু ভুল থাকায় তা সংশোধনের জন্য বলা হয়েছে। সংশোধন হলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট মো. ফারুক জানান, ঠিকাদার একসঙ্গে তিনটি কাজ পান। মগনামা ও নন্দীরপাড়া সড়কের কাজ শেষ করতে সময় লেগে যায়। এছাড়া রোহিঙ্গা প্রকল্পের মেয়াদ ডিসেম্বরেই শেষ হওয়ায় কাজ আর শুরু করা যায়নি। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে, না হলে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করতে হবে।

পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাব-সহকারী প্রকৌশলী শাহাজালাল জানান, ঠিকাদার কাজ বন্ধ রেখে যাওয়ায় পুনরায় দরপত্র (রি-টেন্ডার) আহ্বান করে দ্রুত কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্টিমেটে জেলা অফিস থেকে কিছু ভুল হয়েছে, তা সংশোধন করা হচ্ছে।

পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপি সভাপতি এম বাহাদুর শাহ বলেন, কাজ বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে প্রকৌশল অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা দ্রুত রি-টেন্ডার দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে দুই ওয়ার্ডের অন্তত হাজারো মানুষ চলাচল করে। দুটি প্রাথমিক ও একটি উচ্চ বিদ্যালয়সহ মোট তিনটি স্কুলের শত শত শিক্ষার্থী এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। কাজ বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ বেড়েছে। বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া একপ্রকার বন্ধ হয়ে যাবে।

এনইউ/আরএন




LATEST NEWS
MOST READ
আরও পড়ুন
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000.
Phone: PABX- 41053001-06; Online: 41053014; Advertisement: 41053012.
E-mail: district@dailyobserverbd.com, news©dailyobserverbd.com, advertisement©dailyobserverbd.com, For Online Edition: mailobserverbd©gmail.com
🔝
close