ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে তেঁতুলিয়ায় বালু তোলার মহোৎসব
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৩:০১ পিএম আপডেট: ১০.০৩.২০২৬ ৩:০৬ পিএম
X

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার বাবুরহাট লঞ্চঘাট সংলগ্ন নদী থেকে অবৈধ উপায়ে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে ভয়ংকর রূপ নিয়েছে তেঁতুলিয়া। ফলে নদী তীরবর্তী প্রতিরক্ষা বাঁধ ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। 

এতে উপজেলার বেশ কয়েকটি পয়েন্টে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। পাশাপাশি কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নদী রক্ষা বাঁধ বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তাই আতঙ্কে দিন কাটছে নজরুলনগর ও বিচ্ছিন্ন মুজিবনগর ইউনিয়নের দু'পারের লক্ষাধিক মানুষের। ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে মসজিদ, দোকানপাট, মাছ ঘাটসহ শতাধিক স্থাপনা। বালু উত্তোলন বন্ধ ও ভাঙনরোধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। 

তবে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান চলমান আছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নজরুলনগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুরহাট লঞ্চঘাট সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদীর বুক চিরে দিনের আলোতেই চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। অন্তত ৭ থেকে ৮টি বিশালাকার ড্রেজার জাহাজ দিয়ে প্রতিনিয়ত নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আর এই বালু ১০ থেকে ১২টি জাহাজে করে নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। এতে নদীর তলদেশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে এবং নদী শাসনের জন্য ফেলা কংক্রিট ব্লকগুলো ধীরে ধীরে নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। শান্ত তেঁতুলিয়া নদী এখন হয়ে পড়েছে অশান্ত।

এতে ভয়াবহ ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বহু মানুষের ঘর-বাড়ি, কৃষি জমি, দোকানপাটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। 

বাবুরহাট ঘাটের মুদি ব্যবসায়ী রিয়াজ ,সমাজকর্মী জাহিদসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, নজরুলনগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এই বালু অবৈধ ভাবে উত্তোলন করছে।

স্থানীয়দের দাবি, তার অনুমতি ছাড়া ওই এলাকায় নদী থেকে এক বালতি বালুও উত্তোলন করা সম্ভব নয়। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ড্রেজার চালক বলেন, প্রতিটি ড্রেজার জাহাজ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার টাকা করে ‘মাসোহারা’ দিতে হয়। সে হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজার টাকা এবং মাসে প্রায় ১২ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সহযোগী মাহমুদুল হাসানের বড় ভাই এবং স্থানীয় ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাহিদুল শিকদার। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি এই অবৈধ বালু উত্তোলন কার্যক্রমকে প্রশাসনিক ভাবে আড়াল করছেন বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। 

এছাড়াও, একই ইউনিয়নের যুবদল নেতা রুবেল শিকদার ও তানজিব নামের আরও দু'জন এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে। 

এদিকে, বাবুরহাট লঞ্চঘাট সংলগ্ন নদী রক্ষা বাঁধ এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। 

স্থানীয় প্রবীণ আনিসুর রহমান জুলফিকার বলেন, 'অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদী শাসনের জন্য ফেলা বড় বড় ব্লকগুলো ধীরে ধীরে নদীর গভীরে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে করে আমাদের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।'

স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী হাসান মুন্সি অভিযোগ করে বলেন, 'নদীর লগে যুদ্ধ করে এত দিন টিকে আছি। নদী থেকে বালু তোলার ফলে নদীর তলদেশে বড় বড় গর্ত হয়ে হঠাৎ নদী ভাঙা শুরু হয়েছে। থাকার শেষ আশ্রয়স্থলটুকু নদীতে বিলীন যাবে। সামনে বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙন তীব্র হলে নজরুলনগর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।'

অভিযোগের বিষয়ে নজরুলনগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মুঠোফোনে বলেন, 'বালু উত্তোলনের সঙ্গে আমি জড়িত নই। ইতোমধ্যে আমি বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কথা বলেছি।'

নদী থেকে তাহলে কে বালু উত্তোলন করছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'আমি নিজেই জানি না কারা আসলে বালু উত্তোলন করছে।'

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমাদুল হক বলেন, 'বাবুরহাট সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমি জেনেছি। যারা অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'

এসএফ/এমএ


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝