এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, জুলাই সনদ কোন আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হবে না এবং কাউকেই তা করতে দেয়া হবে না। এটি সব দলের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত ছিল। ঐক্যমত্য কমিশনের বৈঠকে সকল রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে একমত হয়েছিলেন।
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে ফেনী শহরের কিং কমিউনিটি সেন্টারে ফেনীতে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মজিবুর রহমান মঞ্জু এসব কথা বলেন।
মঞ্জু বলেন, “আমরা সবাই কথা দিয়েছিলাম যে, আমরা জুলাই সনদকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করব না, কাউকে চ্যালেঞ্জ করতে দেব না এবং কোনো প্রশ্ন তুলতে দেব না। কিন্তু আপনারা দেখেছেন, এটি আদালতে গিয়েছে এবং বিএনপির সঙ্গে যেই বিষয়টি জড়িত তা এখন ওপেন-সিক্রেট। সুতরাং জুলাই সনদকে যদি প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়, যদি বলা হয় এটি সংবিধানে নেই, তাহলে বলতে হবে যে আপনারা যেভাবে গুম হয়েছেন, সেটিও তো সংবিধানে নেই।”
তিনি আরও বলেন, “সংবিধানের কোন অংশে বলা হয়েছিল খালেদা জিয়াকে জেলে নেওয়া হবে, সংবিধানের কোন অংশে বলা হয়েছিল বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেশান্তরি করা হবে। আপনারা সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে গুমও হননি, জেলেও যাননি, দেশান্তরিও হননি এবং সংবিধানিকভাবে দেশে ফিরে আসেননি। আপনি দেশে ফিরছেন সংবিধান বহির্ভূত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে। আপনি জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের বিনিময়ে।”
তিনি ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এত দ্রুত রক্তের স্রোত ভুলে যাবেন না। এত দ্রুত মানুষের অশ্রু ভুলিয়ে দেবেন না। আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, আজকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ স্বশরীরে গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেননি। অংশ নিতে পারেননি। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানে আপনাদের ভূমিকা আছে। স্বশরীরে অংশ না নেওয়ায় আজ আপনাদের প্রদক্ষেপ গণঅভ্যুত্থানের বিপক্ষে যাচ্ছে। এই যে বিপক্ষে অবস্থান করছেন, জাতি তা মনে রাখবে।”
মঞ্জু অভিযোগ করেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকার সব দলের মানুষকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিয়েছিল, কিন্তু প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার ব্যর্থতা ছিল অমার্জনীয়। হাদী হত্যাকাণ্ডসহ নানা ধরনের ঘটনা সরকারের বড় ব্যর্থতা।
তিনি অভিযোগ করেন, গত সরকার সুস্পষ্টভাবে বিএনপির পক্ষে হেলে গিয়েছিল এবং বিএনপি চেয়ারম্যানকে অতিরিক্ত প্রটোকল দিয়ে জনগণকে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে, যা একটি অপরাধ।
মঞ্জু আরও জানান, ফেনী সদর আসনে বিএনপি প্রার্থী সহিংসতা হবে না বলে আশ্বাস দিলেও অন্তত ৫০ কেন্দ্রে ভয়ভীতি, হামলা ও অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। ঈগলের একজন কেন্দ্র পরিচালককে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে মারাত্মক আহত করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচনী এজেন্টকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা, গাড়ি ভাংচুর ও বেশ কিছু নেতাকর্মীকে আহত করা হয়েছে। নির্বাচনের আগেরদিন এবং পরবর্তী কয়েকদিন ১১ দলীয় জোট ও ঈগল মার্কার কর্মীদের বাড়িঘরে হামলা, শারীরিক নির্যাতন এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে।
এসব ঘটনায় রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও মামলা দেওয়ার পরও ন্যূনতম ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের এমন নির্লিপ্ততায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি জানান, দু-এক দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ফেনীতে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, সেনা ব্রিগেড এবং লালপোলে ফ্লাইওভার স্থাপনের অনুরোধ করবেন।
মঞ্জু বলেন, “শহীদ জিয়া সাধারণ জীবনযাপন করে দেশকে বহুদলীয় গণতন্ত্র উপহার দিয়েছেন, বেগম খালেদা জিয়া জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও সাধারণ জীবনযাপন করে প্রটোকল কমিয়ে সুশাসন দেয়ার চেষ্টা করছেন। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে তাল মিলাতে না পারলে এবং সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি অব্যাহত থাকলে সরকারের সব অর্জন বৃথা যাবে।”
এ সময় এবি পার্টি কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম বাদল, ফেনী জেলা আহবায়ক মাষ্টার আহছান উল্যাহ, সদস্য সচিব অধ্যাপক ফজলুল হক, কোষাধ্যক্ষ শাহ আলম শাহীন সুলতানী, সদস্য নজরুল ইসলাম সবুজ, পার আয়বায়ক আবুল কালাম আজাদ সেলিম, যুব পার্টির আহবায়ক শফিউল্যাহ পারভেজ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক এবি সিদ্দিক, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক জাহানারা আক্তার মনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এটি/আরএন