সৌদি আরবের আল খারিজ শহরের পাশে আল তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির ক্যাম্পে ইরানের মিসাইল হামলায় টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার এক প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত ওই প্রবাসী উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কীর্তনখোলা গ্রামের মোহাম্মদ সুরজত আলীর ছেলে মোশাররফ হোসেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত ওই প্রবাসী দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের আল খারিজ শহরের পাশে আল তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন।
রবিবার দুপুরের পর ইরানের মিসাইল হামলায় সৌদি আরবে তিনি ইন্তেকাল করেন। নিহত মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুর সংবাদে পরিবারের সদস্যদের মাঝে এবং এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত প্রবাসী মোশাররফের পিতা সুরজত আলী বলেন, “আমার ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তনের জন্য। ছেলে প্রতি মাসে বেতন পেয়ে বিদেশ থেকে টাকা পাঠাতো। সেই টাকা দিয়েই সংসার চালাতাম। আমার ছেলে এভাবে আমাদের রেখে চলে গেল। আমি কিভাবে ছেলেকে ছাড়া দিন কাটাবো, কিভাবে বেঁচে থাকবো! আল্লাহ যেন আমার ছেলেকে জান্নাত দান করেন। আমার ছেলের মরদেহ বাংলাদেশে এনে পারিবারিকভাবে দাফন সম্পন্ন করার জন্য দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে। আপনারা সবাই আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন।”
সখীপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সিকদার মোহাম্মদ ছবুর রেজা বলেন, “কীর্তনখোলা গ্রামের সুরজত আলীর ছেলে এবং সৌদি আরবের আল তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানিতে কর্মরত প্রবাসী মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। প্রবাসী মোশাররফের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে।”
স্থানীয় গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন বলেন, “মিসাইল হামলায় নিহত মোশাররফ হোসেন ছেলে হিসেবে খুবই নম্র, ভদ্র ও হাসিখুশি ছিলেন। দীর্ঘদিন আগে তিনি সৌদি আরবে প্রবাস জীবন শুরু করেন। প্রবাসী মোশাররফের মৃত্যুতে গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যিতে গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।”
সখীপুর প্রবাসী ইউনাইটেড ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা সখীপুরবাসী একজন প্রবাসীকে হারালাম, একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধাকে হারালাম। নিহত মোশাররফের আত্মার প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। আমরা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবো।”
এসএস/আরএন