মৌসুমের রসালো ফল তরমুজ বাজারে উঠতে শুরু করেছে। সপ্তাহ খানেক আগে থেকেই আগাম জাতের অপরিপক্ব তরমুজে বাজার সয়লাব থাকলেও এবার সুস্বাদু জাতের তরমুজ কাটতে শুরু করেছেন কৃষকরা। ভালো দামও পাচ্ছেন বাজারে। আকস্মিক ঝড়-বন্যা না হলে এই মৌসুমে দ্বিগুন লাভের আশা করছেন চাষিরা। একইসঙ্গে ব্যবসায়ী ও আড়তদাররাও আছেন ফুরফুরে মেজাজে।
তবে খুচরা পর্যায়ে এখনো মধ্যবিত্ত আর নিম্নবিত্তের নাগালে আসেনি তরমুজের দাম। ফলে সাধারণ মানুষ
ইচ্ছে থাকলেও তরমুজ কিনে খেতে পারছেনা।
এদিকে, মূল্য বেশি হওয়ায় ব্যাপারীরা অপরিপক্ক তরমুজ বাজারে নিয়ে আসছেন। গরমের মধ্যে রোজায় রসালো ফলটির চাহিদা ও দাম বেশি থাকায় আড়তে অপরিপক্ব তরমুজ সরবরাহ করছেন ফড়িয়ারা। কম দামে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষকের কাছ থেকে সংগৃহীত এসব অপরিপক্ব তরমুজ খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন আড়তদাররা। এতে ব্যবসায়ীরা লাভ গুনলেও বাড়ি নিয়ে কাটার পর লালের বদলে তরমুজের ভেতরের রং সাদা দেখে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা। এতে তাদের মাঝে হতাশা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা বলেন, 'চারা রোপণের ৬০-৬৫ দিন পর তরমুজ পরিপক্ব হয়। এর আগে তরমুজ তোলা হলে সেগুলো পুরোপুরি পাকে না। ভেতরে লাল ও সাদা মিলিয়ে থাকে।'
তিনি বলেন, 'তরমুজ কেনার সময় চাপ দিয়ে দেখতে হয় ‘ঢ্যাপ ঢ্যাপ’ শব্দ হয় কি না। যেসব তরমুজের খোসার ওপর মসৃণ ও রং উজ্জল থাকে সেগুলো সাধারণত পাকা হয় না। আর যেসব তরমুজ গোলাকৃতি, সেগুলো বেশি মিষ্টি।
ফলের দোকান ও আড়ত ঘুরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুরুতে তরমুজ বিক্রি বেশি হলেও এখন ব্যবসায় ভাটা পড়েছে। বেশি দামের কারণে একমাত্র সামর্থ্যবানরা ছাড়া সব শ্রেণির ক্রেতারা তরমুজ কিনছেন না। এতে তাদের ব্যবসায়ে মন্দা দেখা দিয়েছে।
ফল ব্যবসায়ী নুরনবী বলেন, 'বড় আকৃতির তরমুজ কিনে তাদের এখানকার অনেক আড়ত ব্যবসায়ী বিপাকে পড়েছেন। খুচরা বাজারে বিক্রি না হওয়ায় সেসব তরমুজ আড়তে পড়ে আছে। তরমুজ পচনশীল। আরও কিছুদিন এভাবে পড়ে থাকলে পঁচে নষ্ট হয়ে যাবে।'
তিনি বলেন, 'রোজা প্রায় শেষের দিকে এখন ফলের চাহিদা আরও কমে যাবে। তখন ফল ব্যবসায়ীরা বসে বসে কান্নাকাটি করবেন। খুচরা ব্যবসায়ীরা কেজি দরে বিক্রি করায় তরমুজের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। এতে ব্যবসায়ে এখন খারাপ প্রভাব পড়ছে।'
চরফ্যাশনে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু অধিক মূল্য হওয়ায় ক্রয় ক্ষমতা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। চরফ্যাশন সদরসহ উপজেলার অন্যান্য বাজারের সর্বত্রই তরমুজের মূল্য অস্বাভাবিক ভাবে বেশি বলে জানা গেছে। মূল্য বেশি হওয়ায় কেউ কেউ বাড়তি দামে তরমুজ কিনলেও অধিকাংশ ক্রেতারা তরমুজ নেড়ে চেড়ে না কিনে ফিরে যাচ্ছেন।
ক্রেতারা বলেন, সাইজে বড় হওয়ায় তরমুজ কাঁচা পাকা বোঝার সুযোগ নেই আমাদের পক্ষে। যার ফলে সরল বিশ্বাসে তরমুজ কিনে অনেক ক্রেতা প্রতারিত হচ্ছেন।
মামুন মাঝি নামে এক ক্রেতা বলেন, 'রোববার চরফ্যাশন সদর রোডের প্যারাডাইস বুক ডিপো সংলগ্ন তরমুজের দোকান থেকে ৬০০ টাকা মূল্য দিয়ে একটি তরমুজ ক্রয় কিনেছি। বাসায় নিয়ে দেখি একেবারেই অপরিপক্ক।'
এসএফ/এমএ