অনাদর-অবহেলায় রাস্তার ধারে, বসতবাড়ির আঙিনায়, মাঠে-ঘাটে বেড়ে ওঠা হাজার হাজার সজনে গাছের ডাল এখন শ্বেত-শুভ্র ফুলে ভরে গেছে। এ বছর নাটোরের বড়াইগ্রামে সুস্বাদু সবজি হিসেবে সমাদৃত এবং ঔষধিগুণের কারণে ‘সুপার ফুড’ হিসেবে খ্যাত সজনের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলার দুটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় দুই থেকে চারটি সজনে গাছ রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশেও বেড়ে উঠেছে অসংখ্য সজনে গাছ। তাছাড়া ইদানীং অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে সজনের চাষ শুরু করেছেন। কোনো প্রকার বালাইনাশক প্রয়োগ বা বিশেষ পরিচর্যা ছাড়াই চাষ করা যায় বলে সজনের উৎপাদন খরচ প্রায় নেই বললেই চলে। বাড়ির পাশে বা জমিতে ডাল পুঁতে রাখলেই ধীরে ধীরে শিকড় গজিয়ে তা উপযুক্ত গাছে পরিণত হয় এবং পরবর্তীতে ফলন দেয়। বাড়ির তরকারির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উৎপাদকরা এসব সজনে বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করে থাকেন।
মৌসুমজুড়ে এসব সজনে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ সবজি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। উপজেলার লক্ষীকোল, মৌখাড়া, বনপাড়া, জোনাইল, রাজাপুর ও আহম্মেদপুর হাট থেকে ব্যাপারীরা এসব সজনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে বিক্রি করেন।
তরুণ উদ্যোক্তা হাফিজুর রহমান ময়না জানান, তিনি দুই বিঘা জমি লিজ নিয়ে সজনের চাষ করেছেন। সজনে বিক্রির পাশাপাশি সজনের পাতা থেকে ভেষজ ওষুধ তৈরি করাই তার লক্ষ্য। তিনি বলেন, সজনে গাছের বয়স ১০ থেকে ১২ মাস হলেই ফলন ধরতে শুরু করে। একটি পরিণত গাছে ৮ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত সজনে পাওয়া যায়। উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এ ফসলের চাষ বেশ লাভজনক।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. জাহেদুল ইসলাম বলেন, সজিনা পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি সবজি। ভিটামিন ‘এ’-এর অভাব দূরীকরণে সজিনা অত্যন্ত উপযোগী। এটি পক্ষাঘাত (প্যারালাইসিস) রোগ প্রতিরোধে সহায়ক হিসেবে কাজ করে। সজিনায় ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, জিংক ও ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। এটি মানবদেহের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে এবং উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য উপকারী। পাশাপাশি সজিনার পাতা শাক হিসেবেও খাওয়া যায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব আল মারুফ জানান, পরিবেশবান্ধব ও অর্থকরী সবজি সজিনাকে ‘মিরাকল ট্রি’ বলা হয়। এ গাছের পাতা, ফুল ও ফল—সবই খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সজিনা অ্যান্টি অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ, যা মানুষের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এটি বাড়ির পাশে অনাবাদি ও পতিত জমিতে সহজেই চাষ করা যায়। ঠান্ডা-গরম ও খরা সহিষ্ণু হওয়ায় বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই এ গাছ জন্মে। সজিনা গাছে তেমন কোনো রোগবালাই নেই বললেই চলে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এ বছর উপজেলায় কমপক্ষে দুইশ মেট্রিক টন সজনে উৎপাদিত হবে, যার বাজারমূল্য সর্বনিম্ন এক কোটি টাকা বলে আশা করা হচ্ছে।
এএইচ/আরএন