দীর্ঘদিন শান্ত থাকার পর আবারও অশান্ত হয়ে উঠেছে সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চল। বনদস্যু ও জলদস্যুদের নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা, অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় জেলেপল্লীগুলোতে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
দস্যুদের এই দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং অপহৃত জেলেদের উদ্ধারের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বরগুনার পাথরঘাটা পৌর শহরের গোলচত্বরে বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন মৎস্যজীবীরা।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতি, বিএফডিসি মৎস্য আড়ৎদার সমিতি, পাইকার সমিতি এবং শ্রমিক ইউনিয়নসহ মৎস্য খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে এই প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন জেলেরা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া জেলেরা অভিযোগ করেন, ‘বড় জাহাঙ্গীর’ ও ‘ছোট জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর নামে দুটি সশস্ত্র দস্যু চক্র সম্প্রতি সাগর ও সুন্দরবন এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাদের নির্যাতনে অতিষ্ঠ জেলেরা এখন সাগরে যেতে ভয় পাচ্ছেন।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবনের কটকা এলাকা থেকে পাথরঘাটার রুহিতা গ্রামের মাসুম মাঝিসহ পাঁচ জেলেকে অপহরণ করা হয়। ২০ ফেব্রুয়ারি ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে মাসুম মাঝি ফিরে এলেও, তার ট্রলারের অন্য তিন সহযোগী মাহবুব (২৭), সোহেল (১৭) ও রাজু (২৬) এখনও দস্যুদের হাতে জিম্মি রয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনদের প্রাণহানির শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
গত বুধবার মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসা কাঁকড়া শিকারি নিহার মণ্ডল তার ওপর চলা নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে বলেন, “আমি মাসোহারা দিয়ে বনে কাজ করতাম, তবুও আমাকে চোখ বেঁধে অপহরণ করা হয়। পায়ে শিকল দিয়ে আটকে রেখে মুক্তিপণের জন্য চাপ দেওয়া হয়।” এক লাখ টাকা দিয়ে ফেরার পথেও দস্যুরা তাদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করেছে বলে জানান তিনি।
আরেক ভুক্তভোগী জেলে রাজু জানান, ফিরে আসার সময় দস্যুরা তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে, তবে অল্পের জন্য তারা প্রাণে বেঁচে যান।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দস্যু দমনে যৌথ বাহিনীর অভিযান অবিলম্বে জোরদার করতে হবে। অন্যথায় উপকূলীয় অর্থনীতি ধসে পড়বে।
তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো— জলদস্যুদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে সুন্দরবন ও সাগরে যৌথ অভিযান শুরু করা। নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ডের নিয়মিত টহল বৃদ্ধি করা। অপহৃত জেলেদের নিঃশর্ত ও দ্রুত উদ্ধার করা।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান বলেন, “জেলেদের পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি আমরা পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জানানো হবে।”
এমএইচ/আরএন