দীর্ঘ দেড় যুগের অপেক্ষা ও আইনি লড়াই শেষে অবশেষে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দিয়েছেন বেলাল উদ্দিন হায়দার। ২৭তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় তিনি চাকরিতে যোগ দিতে পারেননি। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের নির্দেশে গেজেট প্রকাশ হওয়ায় অবশেষে তিনি স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগদান করতে পেরেছেন।
জানা গেছে, ২০০৫ সালে ২৭তম বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে ২০০৭ সালে উত্তীর্ণ হন তিনি। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় ছাত্র রাজনীতি। ওই সময় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তার গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখা হয়। এরপর তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। দীর্ঘদিন মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয়।
পরবর্তীতে হাইকোর্ট বিভাগে দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত ২৭তম বিসিএসের গেজেট প্রকাশসহ তাকে স্বাস্থ্য ক্যাডারে পদায়নের নির্দেশ দেন। আদালতের সেই নির্দেশনার ভিত্তিতে স্বাস্থ্য বিভাগ তাকে নিয়োগ দেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় তিনি কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের চিকিৎসক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন।
বেলাল উদ্দিন হায়দার পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড, সিকদার পাড়ার মৃত ফজল করিমের পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি এমবিবিএস চিকিৎসক হিসেবে ব্যক্তিগত চেম্বারের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিলেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বেলাল হায়দার বলেন, “২৭তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে আমার গেজেট আটকে দেওয়া হয়েছিল। আমি মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যে, দীর্ঘ ১৮ বছর পর বিজ্ঞ আদালতের রায়ে গেজেট প্রকাশ হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ আমাকে পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য ক্যাডারে নিয়োগ দিয়েছে, যা আমার জীবনের বড় প্রাপ্তি। বাকি সময়টুকু আমি মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকব।”
এনইউ/আরএন