ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এখন শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিবর্তনে সীমাবদ্ধ নেই। বরং তারা টেকসই, কাঠামোগত ও জনমুখী উন্নয়ন চাচ্ছেন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পর মানুষ এখন সুশাসন ও উন্নয়নের স্পষ্ট দাবিতে এগিয়ে এসেছে।
ভোলার শহরের সাংস্কৃতি কর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক তালহা তালুকদার বাঁধন বলেন, ভোলাবাসীর প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে অবকাঠামো ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ। তাই ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ, সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন, গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলা এবং নদী ভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ সময়ের দাবি। তিনি বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভোলার অর্থনীতি ও জীবনমান আমূল বদলে যাবে।
তালহা তালুকদার আরও উল্লেখ করেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ এই দ্বীপ জেলায় পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা বিপুল। পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে পর্যটন বিকশিত হলে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
ভোলা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শারমিন জাহান শ্যামলী বলেন, নতুন সরকার যেন সব দলের ও জনগণের সরকার হয়। তিনি দলীয় লেজুরবৃত্তি বন্ধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত শিক্ষামুখী পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি নারী নিরাপত্তা, সমান অংশগ্রহণ ও আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাও উল্লেখ করেন।
লালমোহন উপজেলার সাংবাদিক আলাউদ্দিন বলেন, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সেচের পানি ও সারের যথাযথ সরবরাহ জরুরি। তিনি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় রাখার এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি রোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন।
নতুন সরকার যেন জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, উন্নয়নমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলে—এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।
এএম/এসআর