নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাল্টাপাল্টি হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার এসব ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক গাজী মো. গিয়াসের ব্যবসা-কাম-অফিস এবং আয়নাবাজ কালাইয়া গ্রামের মো. রমিজ দর্জি (৪০) নামের বিএনপি কর্মীর বসতঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে জামায়াত সমর্থকেরা। এ ছাড়া কনকদিয়া ও মমিনপুর এলাকায় পৃথক মারামারির ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার অভিযোগে সকাল সোয়া নয়টার দিকে ডেকোরেটর ব্যবসায়ী মো. শাহ আলম বিপ্লবের (৪৬) ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যুবদল কর্মী সুজনের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। পরে সুজন একই দলবল নিয়ে মো. সেলিম (৫২) নামের এক কাঠ ব্যবসায়ীকে মারধর করেন। এরপর হামলাকারীরা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক গাজী মো. গিয়াস উদ্দিনের বাসায় ঢোকেন। এ খবর পেয়ে জামায়াত সমর্থিত কর্মী-সমর্থকেরা একত্রিত হয়ে গিয়াসের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান-কাম-দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও বৈদ্যুতিক মালামাল লুটপাট করে। এ সময় গিয়াসের বাসভবনের সামনে রাখা অন্তত ১০টি মোটরসাইকেল এবং ফ্রিজ ও এসি ভাঙচুর করা হয়।
এদিকে শুক্রবার সকাল আটটার দিকে কনকদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বীরপাশা খায়েরবাজার এলাকায় বিএনপির কর্মী আলমগীর গাজী (৫৫) ও শাহাবুদ্দিন সরদারকে (৪৮) পিটিয়ে জখম করে জামায়াত সমর্থকেরা। আহত দুজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ছাড়া আজ দুপুর একটার দিকে কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুর গ্রামে মো. ফিরোজ (৫৫) নামের জামায়াতের এক সমর্থককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করেছে বিএনপির কর্মী-সমর্থকেরা। আহত ফিরোজকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েকটি জায়গায় হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের কথা শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জামায়াতের বিজয়ী প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি তিনি পছন্দ করেন না। কোনোভাবেই অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তাঁর কোনো কর্মী-সমর্থক হামলা ও মারামারির ঘটনায় জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই দলীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এমপি/আরএন