কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিনসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর নির্বাচনী দায়িত্বপূর্ণ দৌলতপুর উপজেলায় অস্ত্র পাচারের আশঙ্কা রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, দৌলতপুরে স্থাপিত বিজিবি বেইজ ক্যাম্প থেকে প্রায় ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার এবং সীমান্ত শূন্য লাইন থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে পোল্ট্রিমোড় চর এলাকায় পাচার সংঘটিত হতে পারে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ১১ ফেব্রুয়ারি দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে দৌলতপুর বিজিবি বেইজ ক্যাম্প (বাগোয়ান কে.সি.ভি.এন. উচ্চ বিদ্যালয়) থেকে একটি চৌকস টহল দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন, ৩ রাউন্ড গুলি, ১টি দেশীয় শুটার গান এবং ২টি বড় রামদা, ৫টি ছোট রামদা, ৫টি হাসুয়া, ১টি চাপাতি ও ১টি ছুরিসহ মোট ১৪টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
অভিযান চলাকালে বিজিবির ড্রোন ক্যামেরার আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘটনাস্থল সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্র দৌলতপুর থানায় মামলা দায়েরপূর্বক হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বেসামরিক প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করছে। বিজিবির মহাপরিচালকের দিকনির্দেশনা এবং বাংলাদেশ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসরণ করে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সহিংসতা, নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) ১৩ জন আসামিসহ ৮টি বিদেশি পিস্তল, ২টি দেশীয় শুটার গান, ১২টি ম্যাগাজিন, ১৬ রাউন্ড গুলি এবং ১৪টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে সারা দেশে বিজিবি অভিযান চালিয়ে ৩৬টি বিদেশি পিস্তল, ২টি রাইফেল, ৩৯টি ম্যাগাজিন, ৬৪৮ রাউন্ড গুলি, ২টি মর্টার সেল, ১টি ককটেল, ৪টি হ্যান্ড গ্রেনেড, ২০ কেজি গান পাউডারসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক জব্দ করেছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আশাবাদ ব্যক্ত করে জানিয়েছে, সরকার, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিজিবি সংবিধান ও আইনের আলোকে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে।
এসআই/এসআর