ফেনী সদর উপজেলার মোটবী ইউনিয়নের ইজ্জতপুরে ১১ দলীয় জোটের ঈগল প্রতীকের প্রার্থী এবি পার্টির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান মঞ্জুর নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে মোটবী ইউনিয়নের দাইয়াবিবি বাজার সড়কে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থেকে ১১ দলীয় জোট নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা জানায়, বুধবার সকালে ফেনী-২ আসনের মোটবী ইউনিয়নের ইজ্জতপুরে ঈগল প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয়টি উদ্বোধন করেন দলীয় নেতাকর্মী ও প্রার্থীর সমর্থকরা। রাতের যেকোনো সময়ে কার্যালয়ে রাখা চেয়ার-টেবিল তছনছ করে দুর্বৃত্তরা।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফেনী পুলিশ সুপারের সাথে সাক্ষাৎ করে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এবি পার্টির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মজিবুর রহমান মঞ্জু সাংবাদিকদের বলেন, প্রশাসন যে লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত করার কথা বলেছে সেটি বাস্তবায়নে আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে। এসময় অবিলম্বে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং ভোটারদের হুমকি ও নির্বাচনী অফিস ভাঙচুরের সাথে জড়িতদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন তিনি।
পুলিশ সুপারের সাথে সাক্ষাতকালে উপস্থিত ছিলেন ফেনী জেলা জামায়াতে ইসলামের প্রচার সম্পাদক আনম আবদুর রহিম, এবি পার্টি ফেনী জেলা সদস্য সচিব ফজলুল হক প্রমুখ।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, গতকাল রাতে মোটবীর ইজ্জতপুরে নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করা হয়েছে। বেশকিছু স্থানে আমাদের নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করা হয়েছে। ব্যানার ছিড়ে, বিলবোর্ড নামিয়ে ফেলা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। এগুলো বড় কোন ঘটনা না, কিন্তু ছোট ছোট ঘটনা বড় ঘটনায় রূপ নেয়। সেজন্য আমরা পুলিশ সুপার মহোদয়কে অবহিত করেছি।
‘‘লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। বিএনপির ব্যানার, ফেস্টুন থাকলেও সেগুলোর বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের লোভ দেখাচ্ছে। তাদের ব্যানার থাকলেও প্রশাসন তাদের বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। তাদের ক্যারাভান চললেও আমাদের জরিমানা করা হয়েছে, অভিযোগ দেওয়ার পর টাকা ফেরত দিলেও বিএনপির ক্যারাভানের কথা জানানোর পর আমাদেরও অনুমতি দিয়েছে। টাকা ফেরত পেলেও এতে আমি আর্থিক এবং সাংগঠনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে।’’
তিনি আরও বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড যেটা প্রশাসন নিশ্চিত করবেন বলেছেন কিন্তু সে জায়গায় আমরা অনেক ঘাটতি দেখতে পাচ্ছি। দুইটা-চারটা নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করে লোকদেরকে ভয়ভীতি দেখালে নির্বাচনে অনুকুল পরিবেশ থাকবে না, বরং সে দলের বিরুদ্ধে মানুষ আরো বেশি সোচ্চার হবে। আর সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জনগণ অবশ্যই জবাব দিবে। এটা কি তারা ইচ্ছেকৃতভাবে করতেছেন? আমরা শুনতে পাচ্ছি যে পতিতদের অনেকে নাকি তাদের সাথে মিশে কাজ করছেন। এটা কি পতিতদের ষড়যন্ত্র কি না সেটাও আমরা বুঝতেছি না।
‘‘বিএনপি এসব কেন করছে সেটা তাদের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা কিনা জানি না। প্রশাসনের কাছে সুবিচার না পেলেও ভোটের মাঠে সেটির সুবিচার পাব। জনগণ প্রমাণ দেবে ব্যালটে। বালিগাও, কাজিরবাগ, মোটবীতে আমাদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলছে, অফিস ভাংচুর করা হচ্ছে। আমরা এসব থেকে প্রতিকার চাই। প্রশাসন আমাদের আশ্বস্ত করেছে, আমরা ধৈর্য ধরে আছি।’’
এমএটিবি/ এসআর